শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ২টায় ভেড়ামারা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মন্দির পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ উদযাপন পরিষদ, কুষ্টিয়া জেলা শাখার পূজা মনিটরিং কমিটির নেতৃবৃন্দ।
এসময় দুর্গাপূজার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পূজার প্রস্তুতি পরিদর্শনের লক্ষ্যে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরিদর্শনকালে কমিটির নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন মন্দিরের পূজার প্রস্তুতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন। পূজার সময় যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়। উক্ত মনিটরিং কমিটির নেতৃবৃন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ের খোঁজখবর নেন। এ সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিদর্শন কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ভেড়ামারা উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক(ভারপ্রাপ্ত) প্রদীপ কুমার সরকারসহ অরবিন্দু বিশ্বাস, বিপুল কুমার দেবনাথ, বিষ্ণু বিশ্বাস, রিন্টু কুন্ডু প্রমূখ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ভেড়ামারা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ সরকার বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসবকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ভেড়ামারা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং মন্দিরের প্রতিমা তৈরীর শুরু থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত আছে। প্রতিটি মন্দিরের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পূজার সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব।
আজকে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের পরিদর্শন আমাদের কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করেছে। আমরা মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি, যাতে কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
আমাদের লক্ষ্য হলো, প্রতিটি মন্দিরে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করা। এ জন্য মন্দির কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি। অবশ্য প্রতিবারের ন্যায় এ বছরেও আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতি এবং তাদের প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের ভূমিকা প্রসংশনীয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দর ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ যুগ্ম সাধারন সম্পাদক অসিত কুমার সিংহ রায় বলেন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মনিটরিং কমিটির পক্ষ থেকে ভেড়ামারা উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরের সার্বিক প্রস্তুতি ও সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে সকল মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসবকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে ভেড়ামারা উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরের প্রস্তুতি ও সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রতিটি মন্দির কমিটি যেভাবে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পূজার আয়োজন সম্পন্ন করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের মনিটরিং কমিটির পক্ষ থেকে সকল মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় দুর্গোৎসব আরও সুন্দর ও আনন্দময় হয়ে উঠবে বলে আমরা আশাবাদী। পাশাপাশি পূজার বাকি সময়টুকুতেও নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হোক—এই প্রত্যাশা করছি।”
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ভেড়ামারা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়দেব বিশ্বার বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনাকে ধারণ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট রাখতে হবে। ভেড়ামারা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে আমি পূজার সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছি। প্রতিটি মন্দিরে যেন নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পূজা উদযাপন করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আমি আশা করি, সকলের সহযোগিতায় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে। দুর্গামায়ের আশীর্বাদে দেশ ও জাতির কল্যাণ হোক, সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরে আসুক।”
এসময় জেলা কমিটির অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নিতাই চন্দ্র কুন্ডু, শুধাংশু বিশ্বাস, নিলয় সরকার, শিশির বিশ্বাস, প্রিতম মজুমদার, শক্তি সরকার পাল, মিথুন শীল, প্রবোধ পাল, রতন মৈত্র সহ প্রমূখ।###
এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, ব্যুরো চীফ, দক্ষিণাঞ্চল 



















