কুড়িগ্রামের উলিপুরে সরকারি জায়গায় উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী জেনারেটর স্থাপন এবং সেটিকে স্থায়ীভাবে রাখার জন্য নতুন করে নির্মাণ করা অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিষয়টি নজরে আসার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে এ ব্যবস্থা নেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উলিপুরে একটি সরকারি জায়গায় উচ্চশব্দ সৃষ্টিকারী একটি জেনারেটর স্থাপন করা হয়। জেনারেটরটি নিয়মিত চালানোর কারণে সৃষ্ট শব্দ ও ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি ওই জেনারেটরটি স্থায়ীভাবে রাখার লক্ষ্যে সরকারি জায়গায় নতুন করে একটি কক্ষ নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এবং নির্মিত অবৈধ স্থাপনাটি ভেঙে দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে জেনারেটরটি বন্ধ করে মেশিনটি সংশ্লিষ্টদের জিম্মায় রাখা হয়। প্রশাসনের এ পদক্ষেপের ফলে সরকারি জায়গায় নতুন করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি জেনারেটরের শব্দ ও ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট জনভোগান্তিও কমেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসান বলেন, “আজ আমরা জেনারেটরটি বন্ধ করে দিয়েছি এবং অবৈধ স্থাপনাটি ভেঙে দিয়েছি। মেশিনটি তাদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে যাতে তারা সেখানে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে এবং জেনারেটর চালু না করে, সে বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পরবর্তীতে যদি জেনারেটরটি চালু করা হয়, তাহলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জব্দকৃত মেশিনসহ সংশ্লিষ্ট মালামাল সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সুশীল সমাজ ও বাসিন্দারা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, সরকারি জায়গা দখল বা সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা শুরুতেই বন্ধ করা গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দখলদারির সুযোগ তৈরি হয় না। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়রা সরকারি জায়গা সুরক্ষা এবং জনস্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মোঃ রেজাউল ইসলাম সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ১৩অক্টোবর,২০২৬ইং 



















