ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে অতিরিক্ত ১ হাজার টন ইউরিয়া, পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ বরাদ্দ

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে বাড়তি চাষাবাদ ও কৃষকদের অতিরিক্ত চাহিদা বিবেচনায় সেপ্টেম্বর মাসের নিয়মিত বরাদ্দের বাইরে আরও ১ হাজার টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। দুই দফায় এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, গত পাঁচ বছরের সেপ্টেম্বর মাসের গড় বরাদ্দের তুলনায় এবারই সর্বোচ্চ ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসক জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর বিসিআইসি থেকে ৫০০ টন এবং ১৭ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখা থেকে আরও ৫০০ টন ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে সেপ্টেম্বর মাসে মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৪৪ টন। গত পাঁচ বছরের একই মাসের গড় বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৫৫ টন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে কুড়িগ্রামে মোট ১২ হাজার ৪৮৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ হয়েছে।
উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিয়মিত সময়ে আবাদ করা আমনখেতে বর্তমানে ইউরিয়া বা ডিএপি প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত সার প্রয়োগে অপচয় হতে পারে।
তবে জেলার কয়েকটি উপজেলায় সার বিতরণে বৈষম্য, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব, মজুত ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশের যোগসাজশে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন অভিযানে সার উদ্ধারের ঘটনাও এসব অভিযোগকে সামনে এনেছে। তবে অভিযুক্ত ডিলার বা বিক্রেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কৃষকদের দাবি, সরকারি বরাদ্দ পর্যাপ্ত থাকার পরও কুড়িগ্রামের দুই-তিনটি উপজেলায় কেন কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ উঠছে, তা দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। অনিয়ম বা মজুতের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অতিরিক্ত ১ হাজার টন ইউরিয়া বরাদ্দের পাশাপাশি অক্টোবরের নিয়মিত বরাদ্দের ৩ হাজার ৬৩৯ টন সার আগাম উত্তোলনের অনুমতিও পাওয়া গেছে। তাঁর দাবি, রবি মৌসুমেও সারের সংকট হবে না।
বিশিষ্টজনদের মতে, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, সার বিতরণব্যবস্থায়ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। যেসব উপজেলায় কৃত্রিম সংকট বা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে কৃষকের স্বার্থে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদেরও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড

কুড়িগ্রামে অতিরিক্ত ১ হাজার টন ইউরিয়া, পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ বরাদ্দ

আপডেট সময় : ০৩:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে বাড়তি চাষাবাদ ও কৃষকদের অতিরিক্ত চাহিদা বিবেচনায় সেপ্টেম্বর মাসের নিয়মিত বরাদ্দের বাইরে আরও ১ হাজার টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। দুই দফায় এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, গত পাঁচ বছরের সেপ্টেম্বর মাসের গড় বরাদ্দের তুলনায় এবারই সর্বোচ্চ ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসক জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর বিসিআইসি থেকে ৫০০ টন এবং ১৭ সেপ্টেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখা থেকে আরও ৫০০ টন ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে সেপ্টেম্বর মাসে মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৪৪ টন। গত পাঁচ বছরের একই মাসের গড় বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৫৫ টন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে কুড়িগ্রামে মোট ১২ হাজার ৪৮৩ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ হয়েছে।
উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিয়মিত সময়ে আবাদ করা আমনখেতে বর্তমানে ইউরিয়া বা ডিএপি প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত সার প্রয়োগে অপচয় হতে পারে।
তবে জেলার কয়েকটি উপজেলায় সার বিতরণে বৈষম্য, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব, মজুত ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশের যোগসাজশে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন অভিযানে সার উদ্ধারের ঘটনাও এসব অভিযোগকে সামনে এনেছে। তবে অভিযুক্ত ডিলার বা বিক্রেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কৃষকদের দাবি, সরকারি বরাদ্দ পর্যাপ্ত থাকার পরও কুড়িগ্রামের দুই-তিনটি উপজেলায় কেন কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ উঠছে, তা দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। অনিয়ম বা মজুতের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অতিরিক্ত ১ হাজার টন ইউরিয়া বরাদ্দের পাশাপাশি অক্টোবরের নিয়মিত বরাদ্দের ৩ হাজার ৬৩৯ টন সার আগাম উত্তোলনের অনুমতিও পাওয়া গেছে। তাঁর দাবি, রবি মৌসুমেও সারের সংকট হবে না।
বিশিষ্টজনদের মতে, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, সার বিতরণব্যবস্থায়ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। যেসব উপজেলায় কৃত্রিম সংকট বা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে কৃষকের স্বার্থে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদেরও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।