রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে মতবিনিময় করে বিশেষ কমিটি। পরে সংসদের গণমাধ্যম কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহারে যেসব বিষয়ে ম্যান্ডেট পাওয়া গেছে, সেগুলোও বিবেচনায় নেয়া হবে।
তিনি জানান, সংবিধানের মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের বিষয়টি সংশোধনী প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
সংশোধনী পাসের পর গণভোট
গণভোটের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু বিধানে পরিবর্তন আনা হলে সাংবিধানিকভাবে গণভোটের প্রয়োজন হবে। সংশোধনী বিল সংসদে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সাংবিধানিক গণভোটের বিধান পুনরায় কার্যকর হয়েছে বলে কমিটির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। ফলে যেসব বিষয়ে গণভোটের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেসব বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়েও প্রস্তাব
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান সুরক্ষিত রাখতে গণভোটের বিধান যুক্ত করার একটি প্রস্তাব বিএনপির পক্ষ থেকে এসেছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যাতে সহজে এসব বিধান পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ সংশোধনের ক্ষেত্রেও গণভোট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
বিরোধী দলকে আলোচনায় আসার আহ্বান
সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষ কমিটির সভাপতি। তিনি বলেন, বিরোধী দল আলোচনায় অংশ নিলে তাদের প্রস্তাব ও মতামতও বিবেচনা করা হবে। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেয়ার কথাও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিভেদ নয়, জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেয়া হবে।’
বিশেষ কমিটির সভাপতি জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন সংসদে দেয়ার জোর চেষ্টা চলছে। এরপর ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশোধনী বিল প্রণয়ন করা হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করা হবে। সংসদে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে বিল পাস হলে, যেসব বিষয়ে সাংবিধানিকভাবে প্রয়োজন হবে সেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়।
বিনোদন ডেস্ক 

























