ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাহাড় কাটার প্রমাণ মিলেছে, লামায় পাঁচ ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে

‎
‎
‎বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে পাহাড় কাটার অভিযোগে পাঁচটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সরেজমিন পরিদর্শনে এসব ইটভাটার মাধ্যমে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
‎বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফাইতং এলাকায় পাহাড় কাটার স্থানগুলো পরিদর্শন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনে ইউবিএন, ফোর বিএম, ওয়াইএসবি, বিএমডব্লিউ ও এনআরবি ব্রিকফিল্ডের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ার দাবি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হাসান।
‎পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হাসান বলেন, ‘১০ সেপ্টেম্বর লামার ফাইতং এলাকায় ইটভাটার মালিকদের পাহাড় কাটার স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে পাঁচটি ব্রিকফিল্ডের মাধ্যমে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’
‎তিনি বলেন, লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন—এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে আদালতের আদেশের অনুলিপি এখনো তাঁদের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছেনি।
‎নুর হাসান আরও বলেন, ‘বিষয়টিকে আমরা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। আমাদের অভিযান ও পরিদর্শনের অগ্রগতি সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে পার্বত্য মন্ত্রীকে জানানো হচ্ছে।’
‎পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোনো মহলকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না।
‎এর আগে জনস্বার্থে লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।
‎রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া এবং আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে রিটসংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান।
‎শুনানিতে অংশ নেওয়া সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পাহাড় কাটা বা ধ্বংসের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
‎তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় পার্বত্য অঞ্চলে ইটভাটার জন্য পাহাড় কাটার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পাহাড় কাটার ঘটনা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
‎রিটে লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, বান্দরবান জেলার পাহাড় কাটা ও ধ্বংস বন্ধে কেন প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেটে ফেলা পাহাড় পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
‎রিট আবেদনটি করেন এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও রিপন বড়ুয়া। এতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ১১ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উলিপুরে ইয়াবা ও গাঁজা সহ আটক ৩, ভ্রাম্যমান আদালতে একজনের কারাদণ্ড ও জরিমানা

পাহাড় কাটার প্রমাণ মিলেছে, লামায় পাঁচ ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে

আপডেট সময় : ০২:২৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‎
‎
‎বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে পাহাড় কাটার অভিযোগে পাঁচটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সরেজমিন পরিদর্শনে এসব ইটভাটার মাধ্যমে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
‎বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফাইতং এলাকায় পাহাড় কাটার স্থানগুলো পরিদর্শন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। পরিদর্শনে ইউবিএন, ফোর বিএম, ওয়াইএসবি, বিএমডব্লিউ ও এনআরবি ব্রিকফিল্ডের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ার দাবি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হাসান।
‎পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হাসান বলেন, ‘১০ সেপ্টেম্বর লামার ফাইতং এলাকায় ইটভাটার মালিকদের পাহাড় কাটার স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে পাঁচটি ব্রিকফিল্ডের মাধ্যমে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’
‎তিনি বলেন, লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন—এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে আদালতের আদেশের অনুলিপি এখনো তাঁদের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছেনি।
‎নুর হাসান আরও বলেন, ‘বিষয়টিকে আমরা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। আমাদের অভিযান ও পরিদর্শনের অগ্রগতি সচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে পার্বত্য মন্ত্রীকে জানানো হচ্ছে।’
‎পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোনো মহলকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না।
‎এর আগে জনস্বার্থে লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।
‎রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ লামায় পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া এবং আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে রিটসংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান।
‎শুনানিতে অংশ নেওয়া সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পাহাড় কাটা বা ধ্বংসের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
‎তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় পার্বত্য অঞ্চলে ইটভাটার জন্য পাহাড় কাটার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পাহাড় কাটার ঘটনা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
‎রিটে লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, বান্দরবান জেলার পাহাড় কাটা ও ধ্বংস বন্ধে কেন প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং কেটে ফেলা পাহাড় পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
‎রিট আবেদনটি করেন এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও রিপন বড়ুয়া। এতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ১১ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।