ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মতলব উত্তরে কলেজ শিক্ষকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক

 

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে হাসনেহেনা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের জামতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী ছেংগারচর সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. শাহাবুদ্দিনকে (৪৬) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল। এ নিয়ে হাসনেহেনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলেও দাবি করেছেন স্বজনেরা। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হাসনেহেনা ও শাহাবুদ্দিন দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে অন্য এক নারীর সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

নিহতের খালা সালমা বেগম বলেন, তাঁর ভাগনি অত্যন্ত মেধাবী ও ধৈর্যশীল ছিলেন। স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তাঁরা শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তবে তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

নিহতের চাচাতো ভাই আবুল হোসেন ও শাহজালাল শিকদার জানান, খবর পেয়ে তাঁরা বাড়িতে গিয়ে হাসনেহেনার মরদেহ দেখতে পান। মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের সন্দেহ রয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

নিহতের মা আফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি হত্যার সন্দেহ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

মতলব উত্তর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বাবুল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ পৌঁছানোর আগে স্থানীয় লোকজন মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে মেঝেতে শুইয়ে রেখেছিলেন। এ সময় গলায় ব্যবহৃত ওড়নাটি ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিংড়ায় সাঐল ছাত্র ঐক্য সংস্থার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মতলব উত্তরে কলেজ শিক্ষকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক

আপডেট সময় : ০৮:১২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

 

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে হাসনেহেনা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের জামতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী ছেংগারচর সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. শাহাবুদ্দিনকে (৪৬) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল। এ নিয়ে হাসনেহেনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলেও দাবি করেছেন স্বজনেরা। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হাসনেহেনা ও শাহাবুদ্দিন দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। স্বামীর সঙ্গে অন্য এক নারীর সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

নিহতের খালা সালমা বেগম বলেন, তাঁর ভাগনি অত্যন্ত মেধাবী ও ধৈর্যশীল ছিলেন। স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তাঁরা শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তবে তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

নিহতের চাচাতো ভাই আবুল হোসেন ও শাহজালাল শিকদার জানান, খবর পেয়ে তাঁরা বাড়িতে গিয়ে হাসনেহেনার মরদেহ দেখতে পান। মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের সন্দেহ রয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

নিহতের মা আফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি হত্যার সন্দেহ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

মতলব উত্তর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বাবুল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ পৌঁছানোর আগে স্থানীয় লোকজন মরদেহটি ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে মেঝেতে শুইয়ে রেখেছিলেন। এ সময় গলায় ব্যবহৃত ওড়নাটি ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।