নরসিংদীর মনোহরদীতে আড়াই বছরের শিশু তানজিমা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির সৎ মা রহিমা ওরফে টুনি (২৩) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) নরসিংদী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর বিকেলে মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের পাড়াতলা গ্রামে পন্টন সাহেবের পুকুরের পানি থেকে তানজিমা (২ বছর ৬ মাস) নামের শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর দাদি ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের দাবি, সতীনের প্রতি ক্ষোভ এবং তাঁকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে শিশু তানজিমাকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেন সৎ মা রহিমা ওরফে টুনি। পরে শিশুটির মরদেহ তাঁর স্বামীর দোচালা টিনের ঘরের টোকির ওপর রেখে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে তিনি সেখান থেকে চলে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার তদন্তে নেমে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মনোহরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রহিমা ওরফে টুনিকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।
এদিকে, নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ্-আল-ফারুক (পিপিএম-সেবা) বলেন, অপরাধ দমনে নরসিংদী জেলা পুলিশ ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে বিশ্বাসী। এ জেলায় কোনো অপরাধী আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বদা তৎপর ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আড়াই বছরের শিশু তানজিমার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার (নরসিংদী) 



















