ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলন্ত ফ্যান খসে পড়ল নারী চিকিৎসকের ওপর, আতঙ্কে চিকিৎসক ও রোগীরা

 

 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত ‘ডক্টরস রেস্টরুমে’ সিলিং ফ্যান খুলে এক নারী চিকিৎসকের ওপর পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত চিকিৎসকের নাম ডা. ফৌজিয়া। ভাগ্যক্রমে ফ্যানটি মাথায় না পড়ে কাঁধে লাগায় বড় ধরনের বড় প্রাণহানি ও গুরুতর আঘাত থেকে তিনি রক্ষা পেলেও হাসপাতালজুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনার পর কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার চরম ঘাটতি এবং হাসপাতালের জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন কর্মরত চিকিৎসক, স্টাফ এবং সুশীল সমাজ।

হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডক্টরস রেস্টরুমে অবস্থান করছিলেন ডা. ফৌজিয়া। এ সময় হঠাৎ করেই মাথার ওপর ঘূর্নায়মান সিলিং ফ্যানটি বিকট শব্দে হুক ছিঁড়ে সরাসরি তাঁর ওপর খুলে পড়ে। ফ্যানটি মাথায় পড়লে বড় ধরনের জীবননাশের আশঙ্কাই ছিল। তবে কাঁধের ওপর পড়ায় অলৌকিকভাবে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পান তিনি। সহকর্মীরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। এ খবর মুহূর্তে গোটা হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক দেখা দেয়।

ঘটনার খবর পেয়ে সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ ও ওয়ার্ড ঘুরে জরাজীর্ণের করুণ দৃশ্য চোখে পড়ে। ভবনের একাধিক স্থানে ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে, দেয়াল ও ছাদের রড বেরিয়ে এসেছে এবং বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় ফাটল। ছাদ বা ঝুলন্ত আসবাব যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তৈরি হলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো বড় ধরনের সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ কর্মরতদের।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এই সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজারো সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাত-দিন কাজ করেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু ভবনের ছাদ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও ঝুলন্ত সিলিং ফ্যান পরীক্ষার ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকা চরম দায়িত্বহীনতার শামিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, “যে চিকিৎসকরা মানুষের জীবন বাঁচাতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন, কর্মস্থলেই যদি তাঁদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হয়—তাহলে সাধারণ রোগীরা কতটা নিরাপদ? ভবনের প্লাস্টার ও ফ্যান যদি দায়িত্বশীলদের চোখের সামনে খসে পড়ে, তবে হাসপাতালের প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।”

স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপত্তার বিষয়টিতেও নজর দেওয়া দরকার বলে মত প্রকাশ করেছেন তারা। দ্রুত সময় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। ডা. ফৌজিয়া অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছেন। ভবনটি বেশ পুরোনো হওয়ায় আমরা ইতোমধ্যেই প্রশাসনিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি।”

তিনি আরও জানান, “হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ, ফ্যান ফিটিং এবং ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে চিকিৎসক ও রোগীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।”

এদিকে, অবিলম্বে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার এবং চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, ফেয়ারডিল সিরাপ এবং ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলন্ত ফ্যান খসে পড়ল নারী চিকিৎসকের ওপর, আতঙ্কে চিকিৎসক ও রোগীরা

আপডেট সময় : ১১:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

 

 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত ‘ডক্টরস রেস্টরুমে’ সিলিং ফ্যান খুলে এক নারী চিকিৎসকের ওপর পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত চিকিৎসকের নাম ডা. ফৌজিয়া। ভাগ্যক্রমে ফ্যানটি মাথায় না পড়ে কাঁধে লাগায় বড় ধরনের বড় প্রাণহানি ও গুরুতর আঘাত থেকে তিনি রক্ষা পেলেও হাসপাতালজুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনার পর কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার চরম ঘাটতি এবং হাসপাতালের জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন কর্মরত চিকিৎসক, স্টাফ এবং সুশীল সমাজ।

হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডক্টরস রেস্টরুমে অবস্থান করছিলেন ডা. ফৌজিয়া। এ সময় হঠাৎ করেই মাথার ওপর ঘূর্নায়মান সিলিং ফ্যানটি বিকট শব্দে হুক ছিঁড়ে সরাসরি তাঁর ওপর খুলে পড়ে। ফ্যানটি মাথায় পড়লে বড় ধরনের জীবননাশের আশঙ্কাই ছিল। তবে কাঁধের ওপর পড়ায় অলৌকিকভাবে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পান তিনি। সহকর্মীরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। এ খবর মুহূর্তে গোটা হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক দেখা দেয়।

ঘটনার খবর পেয়ে সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ ও ওয়ার্ড ঘুরে জরাজীর্ণের করুণ দৃশ্য চোখে পড়ে। ভবনের একাধিক স্থানে ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে, দেয়াল ও ছাদের রড বেরিয়ে এসেছে এবং বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় ফাটল। ছাদ বা ঝুলন্ত আসবাব যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তৈরি হলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো বড় ধরনের সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ কর্মরতদের।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এই সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজারো সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাত-দিন কাজ করেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু ভবনের ছাদ, বিদ্যুৎ সংযোগ ও ঝুলন্ত সিলিং ফ্যান পরীক্ষার ন্যূনতম ব্যবস্থা না থাকা চরম দায়িত্বহীনতার শামিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, “যে চিকিৎসকরা মানুষের জীবন বাঁচাতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন, কর্মস্থলেই যদি তাঁদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হয়—তাহলে সাধারণ রোগীরা কতটা নিরাপদ? ভবনের প্লাস্টার ও ফ্যান যদি দায়িত্বশীলদের চোখের সামনে খসে পড়ে, তবে হাসপাতালের প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।”

স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপত্তার বিষয়টিতেও নজর দেওয়া দরকার বলে মত প্রকাশ করেছেন তারা। দ্রুত সময় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। ডা. ফৌজিয়া অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছেন। ভবনটি বেশ পুরোনো হওয়ায় আমরা ইতোমধ্যেই প্রশাসনিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি।”

তিনি আরও জানান, “হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ, ফ্যান ফিটিং এবং ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে চিকিৎসক ও রোগীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।”

এদিকে, অবিলম্বে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার এবং চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।