ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেনজেন ভিসা কী কেন এটি নিয়ে এতো আলোচনা, আবেদন করবেন যেভাবে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • 16

ইউরোপ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ‘শেনজেন ভিসা’ বেশ পরিচিত একটি নাম। স্বল্পমেয়াদি এই ভিসার মাধ্যমে শেনজেন এলাকার দেশগুলোতে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। এই ভিসা থাকলে শেনজেন এলাকার অন্য দেশগুলোতে আলাদা ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করা যায়। তবে ভিসার মেয়াদ, কতবার প্রবেশ করা যাবে এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যসহ নির্ধারিত শর্তগুলো মেনে চলতে হয়। বর্তমানে শেনজেন এলাকায় ২৯টি দেশ রয়েছে।

 

শেনজেন ভিসা

 

শেনজেন ভিসা হলো ইউরোপের শেনজেন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের অনুমতি। সাধারণভাবে এই ভিসায় ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকা যায়। পর্যটন, ব্যবসা, পরিবার বা স্বল্পমেয়াদি অন্যান্য উদ্দেশ্যে এ ভিসা ব্যবহার করা হয়।

 

বর্তমানে শেনজেন এলাকায় ২৯টি দেশ রয়েছে। এগুলো হলো অস্ট্রিয়া, আইসল্যান্ড, ইতালি, এস্তোনিয়া, গ্রিস, চেক রিপাবলিক, জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, বেলজিয়াম, মাল্টা, লুক্সেমবার্গ, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া, স্পেন, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, হাঙ্গেরি এবং ক্রোয়েশিয়া-এই দেশগুলো শেনজেন দেশ।

 

১৯৮৫ সালে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে শেনজেন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরে ১৯৯০ সালের শেনজেন কনভেনশনের মাধ্যমে এর বাস্তবায়নের আইনি ও পরিচালন কাঠামো তৈরি হয়।

 

সাধারণভাবে একটি বৈধ শেনজেন ভিসা দিয়ে শেনজেন এলাকার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করা যায়। তবে ভিসা আবেদনের সময় যে দেশে সবচেয়ে বেশি সময় থাকার পরিকল্পনা, সাধারণত সেই দেশের কনস্যুলেটেই আবেদন করতে হয়। একাধিক দেশে সমান সময় থাকলে প্রথম যে দেশে প্রবেশ করবেন, সেই দেশের কনস্যুলেটে আবেদন করতে হয়।

 

নিজের বৈধ বসবাসের দেশের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটে আবেদন করতে হয়। কিছু দেশে আবেদন গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ভিসা সেবা কেন্দ্রও থাকে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। আবেদন করতে ক্লিক করুন এখানে।

 

 

 

সাধারণভাবে বৈধ পাসপোর্ট, পূরণ করা আবেদন ফরম, নির্ধারিত মাপের ছবি, ভ্রমণ চিকিৎসা বিমা, থাকার ব্যবস্থা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয়। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাগজপত্রও চাইতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন

গোল্ডেন ভিসা কী, যে কারণে কঠোর হচ্ছে দেশগুলো

 

 

 

 

ভ্রমণের সর্বোচ্চ ছয় মাস আগে আবেদন করা যায়। সাধারণ নিয়মে নির্ধারিত ভ্রমণের অন্তত ১৫ দিন আগে আবেদন জমা দিতে হয়। তবে সাক্ষাৎকার বা অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হলে সময় বেশি লাগতে পারে।

 

 

 

বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শেনজেন ভিসার সাধারণ ফি ৯০ ইউরো। ৬ থেকে ১২ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য ফি ৪৫ ইউরো। ৬ বছরের কম বয়সি শিশুদের সাধারণত ভিসা ফি দিতে হয় না। ভিসা সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করলে অতিরিক্ত সেবা ফি লাগতে পারে।

 

 

 

শেনজেন ভিসা পেলেই ৯০ দিনের বেশি থাকা যায় না। এটি মূলত ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের স্বল্পমেয়াদি অবস্থানের জন্য। ৯০ দিনের বেশি থাকা, কাজ বা দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় ভিসা বা বসবাসের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বকশীগঞ্জে মাদকসহ আটক, যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

শেনজেন ভিসা কী কেন এটি নিয়ে এতো আলোচনা, আবেদন করবেন যেভাবে

আপডেট সময় : ০৭:৪১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ‘শেনজেন ভিসা’ বেশ পরিচিত একটি নাম। স্বল্পমেয়াদি এই ভিসার মাধ্যমে শেনজেন এলাকার দেশগুলোতে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। এই ভিসা থাকলে শেনজেন এলাকার অন্য দেশগুলোতে আলাদা ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করা যায়। তবে ভিসার মেয়াদ, কতবার প্রবেশ করা যাবে এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যসহ নির্ধারিত শর্তগুলো মেনে চলতে হয়। বর্তমানে শেনজেন এলাকায় ২৯টি দেশ রয়েছে।

 

শেনজেন ভিসা

 

শেনজেন ভিসা হলো ইউরোপের শেনজেন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের অনুমতি। সাধারণভাবে এই ভিসায় ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকা যায়। পর্যটন, ব্যবসা, পরিবার বা স্বল্পমেয়াদি অন্যান্য উদ্দেশ্যে এ ভিসা ব্যবহার করা হয়।

 

বর্তমানে শেনজেন এলাকায় ২৯টি দেশ রয়েছে। এগুলো হলো অস্ট্রিয়া, আইসল্যান্ড, ইতালি, এস্তোনিয়া, গ্রিস, চেক রিপাবলিক, জার্মানি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, বেলজিয়াম, মাল্টা, লুক্সেমবার্গ, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া, স্পেন, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, হাঙ্গেরি এবং ক্রোয়েশিয়া-এই দেশগুলো শেনজেন দেশ।

 

১৯৮৫ সালে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে শেনজেন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরে ১৯৯০ সালের শেনজেন কনভেনশনের মাধ্যমে এর বাস্তবায়নের আইনি ও পরিচালন কাঠামো তৈরি হয়।

 

সাধারণভাবে একটি বৈধ শেনজেন ভিসা দিয়ে শেনজেন এলাকার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করা যায়। তবে ভিসা আবেদনের সময় যে দেশে সবচেয়ে বেশি সময় থাকার পরিকল্পনা, সাধারণত সেই দেশের কনস্যুলেটেই আবেদন করতে হয়। একাধিক দেশে সমান সময় থাকলে প্রথম যে দেশে প্রবেশ করবেন, সেই দেশের কনস্যুলেটে আবেদন করতে হয়।

 

নিজের বৈধ বসবাসের দেশের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটে আবেদন করতে হয়। কিছু দেশে আবেদন গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ভিসা সেবা কেন্দ্রও থাকে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। আবেদন করতে ক্লিক করুন এখানে।

 

 

 

সাধারণভাবে বৈধ পাসপোর্ট, পূরণ করা আবেদন ফরম, নির্ধারিত মাপের ছবি, ভ্রমণ চিকিৎসা বিমা, থাকার ব্যবস্থা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয়। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাগজপত্রও চাইতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন

গোল্ডেন ভিসা কী, যে কারণে কঠোর হচ্ছে দেশগুলো

 

 

 

 

ভ্রমণের সর্বোচ্চ ছয় মাস আগে আবেদন করা যায়। সাধারণ নিয়মে নির্ধারিত ভ্রমণের অন্তত ১৫ দিন আগে আবেদন জমা দিতে হয়। তবে সাক্ষাৎকার বা অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হলে সময় বেশি লাগতে পারে।

 

 

 

বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শেনজেন ভিসার সাধারণ ফি ৯০ ইউরো। ৬ থেকে ১২ বছরের কম বয়সি শিশুদের জন্য ফি ৪৫ ইউরো। ৬ বছরের কম বয়সি শিশুদের সাধারণত ভিসা ফি দিতে হয় না। ভিসা সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করলে অতিরিক্ত সেবা ফি লাগতে পারে।

 

 

 

শেনজেন ভিসা পেলেই ৯০ দিনের বেশি থাকা যায় না। এটি মূলত ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের স্বল্পমেয়াদি অবস্থানের জন্য। ৯০ দিনের বেশি থাকা, কাজ বা দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় ভিসা বা বসবাসের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে।