বাঁকড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি আবু রাসেলের
ঝিকরগাছা (যশোর): সাংবাদিকতা, সমাজসেবা, পেশাগত কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক-সামাজিক সম্পৃক্ততার পাশাপাশি এবার জনপ্রতিনিধিত্বের অঙ্গনে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দিগদানা এলাকার আবু রাসেল। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ওয়ার্ডের মানুষের পাশে থাকার লক্ষ্য নিয়ে মেম্বার পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
আবু রাসেলের পরিচয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছে সাংবাদিকতা। তিনি দৈনিক বাংলার সংবাদ, এ টিভি সংবাদ, দৈনিক জনতার খবর, মর্নিং পোস্ট, ইনসাইড ঢাকা ও দৈনিক দেশের কাগজ-এর সঙ্গে সাংবাদিকতায় যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে দৈনিক দেশের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যশোর জেলা দায়িত্বে রয়েছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তার সম্পৃক্ততা। তিনি বাঁকড়া স্বপ্নময় ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে সংগঠনটি স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অসহায় মানুষের সহায়তা, মানবিক উদ্যোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এছাড়া আবু রাসেল সার্ক-মানবাধিকার ফাউন্ডেশন যশোর জেলা শাখার সদস্য, ঝিকরগাছা ব্রিজ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য, নাগরিক অধিকার আন্দোলন, ঝিকরগাছা উপজেলা এবং সেবা সংগঠন ঝিকরগাছার সদস্য হিসেবে সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও দীর্ঘ সম্পৃক্ততার দাবি
আবু রাসেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাঁকড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির দুঃসময়ে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার দাবিও করেছেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির একজন কর্মী ও প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগও গড়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।
মানুষের দরজায় সেবা পৌঁছানোর পরিকল্পনা
মেম্বার পদে নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আবু রাসেল। নাগরিকদের সমস্যা সরাসরি শোনা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মানুষের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়া, ইউনিয়ন পরিষদে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থেকে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা এবং এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বিশেষ করে তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সামাজিক ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অন্যায়, অনিয়ম ও সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কথা বলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন।
পেশাগত জীবনেও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
জনপ্রতিনিধিত্বের প্রস্তুতির পাশাপাশি আবু রাসেলের রয়েছে পেশাগত অভিজ্ঞতা। ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে প্রায় পাঁচ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। মার্কেটিং অফিসার হিসেবে গদখালী ও শিওরদাহ আউটলেটে দায়িত্ব পালনের পর আউটলেট ইনচার্জ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে তিনি জানান।
বর্তমানে তিনি মেটলাইফের ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট হিসেবেও পেশাগত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
আবু রাসেলের ১০ দফা পরিচিতি
১. ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দিগদানা এলাকার বাসিন্দা।
২. দৈনিক বাংলার সংবাদ, এ টিভি সংবাদ, দৈনিক জনতার খবর, মর্নিং পোস্ট, ইনসাইড ঢাকা ও দৈনিক দেশের কাগজের সঙ্গে সাংবাদিকতায় সম্পৃক্ত; বর্তমানে দৈনিক দেশের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যশোর জেলা দায়িত্বে।
৩. বাঁকড়া স্বপ্নময় ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
৪. সার্ক-মানবাধিকার ফাউন্ডেশন যশোর জেলা শাখার সদস্য।
৫. ঝিকরগাছা ব্রিজ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য।
৬. নাগরিক অধিকার আন্দোলন, ঝিকরগাছা উপজেলা এবং সেবা সংগঠন ঝিকরগাছার সদস্য।
৭. বাঁকড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের দাবি এবং বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন।
৮. ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমে প্রায় পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা; মার্কেটিং অফিসার ও আউটলেট ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন।
৯. বর্তমানে মেটলাইফের ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাসোসিয়েট হিসেবে কর্মরত।
১০. ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি এবং স্থানীয় মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, নাগরিক সেবা ও তরুণ সমাজের উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনা।
আবু রাসেল জানান, জনপ্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেলে দল-মত নির্বিশেষে ওয়ার্ডের মানুষের জন্য কাজ করতে চান। সাধারণ মানুষের কথা শোনা, সমস্যার সময়ে পাশে থাকা এবং নাগরিকদের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়গুলো তুলে ধরাকে তিনি গুরুত্ব দিতে চান।
১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দিগদানা এলাকার এই প্রার্থীর প্রস্তুতিতে তার সাংবাদিকতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা—সব মিলিয়ে একটি বহুমাত্রিক পরিচয় সামনে এসেছে। এখন তার ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততা নির্বাচনী মাঠে কীভাবে প্রতিফলিত হয়, সেদিকেই স্থানীয়দের নজর।




















