লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মোগলহাট ও ঝাউরানী বিওপির টহলদল পৃথক ০২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মালামাল এবং ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন প্রকার মালামাল চোরাচালানের চেষ্টা করবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ দুপুর ০৩:৩০ ঘটিকায় মোগলহাট বিওপির আওতাধীন বানিয়াটারী (থানা-আদিতমারী, জেলা-লালমনিরহাট) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে বিজিবি টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা বহনকৃত মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মালামাল জব্দ করা হয়।
এছাড়াও, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত ১০:৪০ ঘটিকায় ঝাউরানী বিওপির আওতাধীন খামারভাতী (থানা-হাতীবান্ধা, জেলা-লালমনিরহাট) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে বিজিবি টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিকে আসতে দেখে তার গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারি তার সঙ্গে থাকা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার মালামালের সিজার মূল্য ১,৯৫,০২০ টাকা এবং ৪৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপের সিজার মূল্য ১৮,০০০ টাকাসহ জব্দকৃত মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ২,১৩,০২০ (দুই লক্ষ তেরো হাজার বিশ) টাকা। এছাড়াও, চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদকপাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাসমূহে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও চোরাচালান ও মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি 



















