ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবুল হাশেম বক্করের সততা ও নিরপেক্ষতার জয়:

  • আপডেট সময় : ০৯:৫৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • 10

রেয়াজউদ্দিন বাজারে স্মরণকালের সবচেয়ে ‘স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন’ নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক

‎সব ধরনের ভয়ভীতি, পেশিশক্তি আর প্রভাবের দেয়াল ভেঙে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী রেয়াজউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে (২০২৬-২০২৯) এক নতুন নজির স্থাপিত হলো। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রের নির্বাচনকে ঘিরে যে চরম উত্তেজনা ও শঙ্কা ছিল, তা উবে গেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল হাশেম বক্কর-এর কঠোর, আপসহীন এবং নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে। তাঁর সুদক্ষ পরিচালনায় গতকাল শনিবার চট্টগ্রামস্থ মোটেলে সৈকতে অনুষ্ঠিত হয়েছে রেয়াজউদ্দিন বাজারের ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নির্বাচন।

‎এই ঐতিহাসিক ও স্বচ্ছ ব্যালট বিপ্লবে বিতর্কিত ফ্যাসিস্ট ব্যবসায়ী ছালামত আলীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আলহাজ মোহাম্মদ আলী আব্বাস খান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আবুল কাসেম চৌধুরী। আজ রবিবার ভোর রাত ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

‎নির্বাচন কমিশনার বক্করের ‘জিরো টলারেন্স’ ও স্বচ্ছতা

‎সাধারণ ব্যবসায়ী ও ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনের আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল হাশেম বক্কর। অতীতে এই বাজারের নির্বাচন মানেই ছিল জাল ভোট, বুথ দখল আর বহিরাগতদের দাপট। কিন্তু এবার বক্কর সাহেবের কঠোর অবস্থানের কারণে কোনো পক্ষই ন্যূনতম অনিয়ম করার সুযোগ পায়নি।

‎ভোটের দিন সকাল থেকেই তিনি নিজে সশরীরে প্রতিটি বুথ পরিদর্শন করেন এবং ভোটার আইডি কার্ড যাচাই করে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে তবেই ভোটারদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। কেন্দ্রে কোনো বহিরাগত বা অ-ব্যবসায়ীর প্রবেশ ঠেকাতে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করে একটি ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়’ তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁর এই ইস্পাতকঠিন নিরপেক্ষতার কারণেই সাধারণ দোকানদারেরা কোনো ভয় ছাড়া, লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন।


‎গত এক দশক ধরে রেয়াজউদ্দিন বাজারে জেঁকে বসা ছালামত সিন্ডিকেটের ভয় ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের মনে যে ক্ষোভ জমা ছিল, তা গতকাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও হাঙ্গামা ছাড়া অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

‎ফলাফল ঘোষণার পর মধ্যরাতে মোটেলে সৈকত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হাজারো ব্যবসায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল হাশেম বক্করকে করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে ধন্যবাদ জানান। ব্যবসায়ীরা বলেন, “আমরা একজন অভিভাবকের মতো নেতা পেয়েছিলাম বলেই আজ আমাদের পবিত্র আমানত (ভোট) সঠিকভাবে রক্ষা পেয়েছে।”



‎ফলাফল ঘোষণার পর এক আবেগঘন ও নীতিনির্ধারণী বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল হাশেম বক্কর বলেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রেয়াজউদ্দিন বাজারের হাজার হাজার সাধারণ ব্যবসায়ীর দীর্ঘদিনের ছিনতাই হয়ে যাওয়া ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। আমি প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট বলেছিলাম— এই নির্বাচন হবে শতভাগ স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন এবং নিরপেক্ষ। কোনো ধরনের পর্দার আড়ালের সমঝোতা বা পেশিশক্তির দাপট এখানে চলবে না। মহান আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া, আমরা শতভাগ সফল হয়েছি।”

‎তিনি আরও যোগ করে বলেন, অনেকে ভেবেছিলেন অতীতের মতো হয়তো এখানেও প্রভাব খাটানো যাবে। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রলোভন আমাকে আমার দায়িত্ব থেকে এক চুলও বিচ্যুত করতে পারেনি। আমি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ দেখিনি, দেখেছি সাধারণ দোকানদারদের চোখ। ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যালটের মাধ্যমে যে রায় দিয়েছেন, তা আমরা হুবহু তুলে ধরেছি। এই জয় কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর নয়, এই জয় মূলত গণতন্ত্রের, সত্যের এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের অধিকারের জয়।”


‎নবনির্বাচিত সভাপতি আলী আব্বাস খান এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম চৌধুরীও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “বক্কর ভাইয়ের এই ঐতিহাসিক, সাহসী ও অনমনীয় ভূমিকা চট্টগ্রাম তথা দেশের ব্যবসায়ী সমাজের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর তৈরি করে দেওয়া এই পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছতার ধারা বজায় রেখেই আমরা রেয়াজউদ্দিন বাজারকে একটি আধুনিক, নিরাপদ এবং সম্পূর্ণ চাঁদাবাজিমুক্ত বাজার হিসেবে গড়ে তুলবো।”

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়ার প্রথম মাজারে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শ্রদ্ধা

আবুল হাশেম বক্করের সততা ও নিরপেক্ষতার জয়:

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

রেয়াজউদ্দিন বাজারে স্মরণকালের সবচেয়ে ‘স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন’ নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক

‎সব ধরনের ভয়ভীতি, পেশিশক্তি আর প্রভাবের দেয়াল ভেঙে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহ্যবাহী রেয়াজউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে (২০২৬-২০২৯) এক নতুন নজির স্থাপিত হলো। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রের নির্বাচনকে ঘিরে যে চরম উত্তেজনা ও শঙ্কা ছিল, তা উবে গেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল হাশেম বক্কর-এর কঠোর, আপসহীন এবং নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে। তাঁর সুদক্ষ পরিচালনায় গতকাল শনিবার চট্টগ্রামস্থ মোটেলে সৈকতে অনুষ্ঠিত হয়েছে রেয়াজউদ্দিন বাজারের ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নির্বাচন।

‎এই ঐতিহাসিক ও স্বচ্ছ ব্যালট বিপ্লবে বিতর্কিত ফ্যাসিস্ট ব্যবসায়ী ছালামত আলীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আলহাজ মোহাম্মদ আলী আব্বাস খান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আবুল কাসেম চৌধুরী। আজ রবিবার ভোর রাত ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

‎নির্বাচন কমিশনার বক্করের ‘জিরো টলারেন্স’ ও স্বচ্ছতা

‎সাধারণ ব্যবসায়ী ও ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনের আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল হাশেম বক্কর। অতীতে এই বাজারের নির্বাচন মানেই ছিল জাল ভোট, বুথ দখল আর বহিরাগতদের দাপট। কিন্তু এবার বক্কর সাহেবের কঠোর অবস্থানের কারণে কোনো পক্ষই ন্যূনতম অনিয়ম করার সুযোগ পায়নি।

‎ভোটের দিন সকাল থেকেই তিনি নিজে সশরীরে প্রতিটি বুথ পরিদর্শন করেন এবং ভোটার আইডি কার্ড যাচাই করে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে তবেই ভোটারদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। কেন্দ্রে কোনো বহিরাগত বা অ-ব্যবসায়ীর প্রবেশ ঠেকাতে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করে একটি ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়’ তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁর এই ইস্পাতকঠিন নিরপেক্ষতার কারণেই সাধারণ দোকানদারেরা কোনো ভয় ছাড়া, লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছেন।


‎গত এক দশক ধরে রেয়াজউদ্দিন বাজারে জেঁকে বসা ছালামত সিন্ডিকেটের ভয় ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের মনে যে ক্ষোভ জমা ছিল, তা গতকাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও হাঙ্গামা ছাড়া অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

‎ফলাফল ঘোষণার পর মধ্যরাতে মোটেলে সৈকত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হাজারো ব্যবসায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল হাশেম বক্করকে করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে ধন্যবাদ জানান। ব্যবসায়ীরা বলেন, “আমরা একজন অভিভাবকের মতো নেতা পেয়েছিলাম বলেই আজ আমাদের পবিত্র আমানত (ভোট) সঠিকভাবে রক্ষা পেয়েছে।”



‎ফলাফল ঘোষণার পর এক আবেগঘন ও নীতিনির্ধারণী বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল হাশেম বক্কর বলেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রেয়াজউদ্দিন বাজারের হাজার হাজার সাধারণ ব্যবসায়ীর দীর্ঘদিনের ছিনতাই হয়ে যাওয়া ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। আমি প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট বলেছিলাম— এই নির্বাচন হবে শতভাগ স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন এবং নিরপেক্ষ। কোনো ধরনের পর্দার আড়ালের সমঝোতা বা পেশিশক্তির দাপট এখানে চলবে না। মহান আল্লাহর দরবারে লাখো শুকরিয়া, আমরা শতভাগ সফল হয়েছি।”

‎তিনি আরও যোগ করে বলেন, অনেকে ভেবেছিলেন অতীতের মতো হয়তো এখানেও প্রভাব খাটানো যাবে। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রলোভন আমাকে আমার দায়িত্ব থেকে এক চুলও বিচ্যুত করতে পারেনি। আমি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ দেখিনি, দেখেছি সাধারণ দোকানদারদের চোখ। ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যালটের মাধ্যমে যে রায় দিয়েছেন, তা আমরা হুবহু তুলে ধরেছি। এই জয় কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর নয়, এই জয় মূলত গণতন্ত্রের, সত্যের এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের অধিকারের জয়।”


‎নবনির্বাচিত সভাপতি আলী আব্বাস খান এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম চৌধুরীও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “বক্কর ভাইয়ের এই ঐতিহাসিক, সাহসী ও অনমনীয় ভূমিকা চট্টগ্রাম তথা দেশের ব্যবসায়ী সমাজের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর তৈরি করে দেওয়া এই পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছতার ধারা বজায় রেখেই আমরা রেয়াজউদ্দিন বাজারকে একটি আধুনিক, নিরাপদ এবং সম্পূর্ণ চাঁদাবাজিমুক্ত বাজার হিসেবে গড়ে তুলবো।”