ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবদুল্লাহ আল নোমানের শূন্যতায় অনন্য সাঈদ আল নোমান

  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • 29

রাসেল চৌধুরী :

‎বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে নেতৃত্ব বদল এবং উত্তরাধিকারের গল্প নতুন কিছু নয়। তবে সেই উত্তরাধিকার যখন স্রেফ বংশমর্যাদার দেয়াল ভেঙে গণমানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়, তখন তা হয়ে ওঠে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের বিদায়ের পর চট্টগ্রামের রাজনৈতিক আকাশে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা আজ এক নতুন আশার আলোতে দীপ্তমান। পিতার সেই বিশাল ছায়াকে ধারণ করে, তাঁরই দেখানো আদর্শের রাজপথে সগৌরবে আবির্ভূত হয়েছেন তাঁর সুযোগ্য সন্তান সাঈদ আল নোমান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বাবার আসন চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর, খুলশী, পাহাড়তলী) থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—তিনি কেবল আবদুল্লাহ আল নোমানের রক্তের উত্তরাধিকারী নন, বরং তাঁর রাজনৈতিক দর্শনেরও যোগ্যতম ‘রিপ্লেস’।


‎২০২৫ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজনীতির এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটে। চট্টগ্রামের কোতোয়ালি আসন থেকে তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সফল সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই প্রস্থান কেবল বিএনপির জন্যই নয়, সমগ্র চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন এমন এক নেতা, যাঁর দরজা দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য সবসময় উন্মুক্ত থাকত।

‎বাবার এই আকস্মিক মৃত্যুর পর যখন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ দিশেহারা, ঠিক তখনই জনমানুষের দাবির মুখে হাল ধরেন সাঈদ আল নোমান। রাজনীতিতে আসার পূর্ব পরিকল্পনা না থাকলেও, পিতৃবিয়োগের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি সাধারণ মানুষের আবদারকে ফিরিয়ে দিতে পারেননি। দলের নেতাকর্মীদের অনুরোধ এবং জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি রাজনীতিতে পা রাখেন এবং বাবার আসনে প্রতিস্থাপিত হন।


‎আবদুল্লাহ আল নোমান এবং সাঈদ আল নোমানের রাজনৈতিক যাত্রার দিকে তাকালে পিতা ও পুত্রের এক অপূর্ব আদর্শিক মেলবন্ধন লক্ষ্য করা যায়। তবে এই দুই প্রজন্মের কাজের ধরনে রয়েছে সমসাময়িক সময়ের এক দারুণ আধুনিকতার ছোঁয়া।

আবদুল্লাহ আল নোমান পরিচিত ছিলেন মাঠপর্যায়ের কর্মী-বান্ধব নেতা হিসেবে। সাঈদ আল নোমানও রাজনীতিতে এসেই প্রথম যে কাজটি করেছেন, তা হলো বাবার মতো করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা। তিনি ড্রয়িংরুম রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন।

পিতা আবদুল্লাহ আল নোমান যখন মন্ত্রী ছিলেন, তখন চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিলেন। সাঈদ আল নোমান পিতার সেই উন্নয়নমুখী ধারাকে বজায় রেখে এর সাথে যুক্ত করেছেন আধুনিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর চিন্তাভাবনা। তিনি যুবসমাজকে আইটি এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখছেন।

এই পিতা-পুত্রের অবদান কেবল রাজনীতির মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়। চট্টগ্রামের উচ্চশিক্ষার প্রসারে তাঁরা যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি’ (ইডিইউ)। আবদুল্লাহ আল নোমানের দূরদর্শিতা এবং সাঈদ আল নোমানের আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিষ্ঠানটি আজ চট্টগ্রামের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়েছে। রাজনীতিতে আসার আগেই সাঈদ আল নোমান শিক্ষার আলো ছড়িয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছিলেন।

‎২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত অত্যন্ত স্বল্প সময়ে সাঈদ আল নোমান তাঁর নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-১০-এ যে সমস্ত দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁর প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য ছিল ডবলমুরিং, হালিশহর ও পাহাড়তলীর মতো বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রধান এলাকাগুলোকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত করা। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ কোনো অপকর্মে লিপ্ত হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। চট্টগ্রামের চিরচেনা সমস্যা জলাবদ্ধতা। সাঈদ আল নোমান তাঁর আসনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার এবং খালগুলো পুনখননের জন্য সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোর সাথে সমন্বয় করে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছেন।

যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং বেকারত্ব দূর করতে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় মিনি আইটি পার্ক ও ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছেন। সপ্তাহে অন্তত একদিন তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য ‘জনতার দরবার’ চালু করেছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি তাদের এমপির কাছে দুঃখ-দুর্দশার কথা জানাতে পারছেন, যা ঠিক তাঁর বাবার আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়।

‎রাজনীতিতে অনেক সময় দেখা যায় পিতার মৃত্যুর পর সন্তানরা কেবল নামের জোরে পদ-পদবি পেয়ে যান, কিন্তু জনগণের মন জয় করতে পারেন না। সাঈদ আল নোমানের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বাবার নামের ওপর ভরসা করে ঘরে বসে থাকেননি।

‎চট্টগ্রামের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন চট্টগ্রামের রাজনীতির এক ‘মহীরুহ’। তাঁর স্থান পূরণ করা যেকোনো তরুণ নেতার জন্য ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সাঈদ আল নোমান তাঁর মেধা, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি, মার্জিত ভাষা এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজেকে একজন পরিপক্ক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তিনি কেবল নোমান সাহেবের শূন্য আসনটিই পূরণ করেননি, বরং বাবার সততা ও সাহসিকতার আদর্শকেও নিজের ভেতরে ধারণ করেছেন।

‎সাঈদ আল নোমানের এই উদীয়মান নেতৃত্ব কেবল চট্টগ্রাম-১০ আসনের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য একটি রোল মডেল। কাদা ছোঁড়াছুড়ির চেনা রাজনীতির বাইরে গিয়ে তিনি শিক্ষা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণকে তাঁর রাজনীতির মূল হাতিয়ার বানিয়েছেন।

‎পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে সাঈদ আল নোমান আজ চট্টগ্রামের লাখো মানুষের কণ্ঠস্বর। আবদুল্লাহ আল নোমান আজ বেঁচে থাকলে হয়তো ছেলের এই মানবিক ও আধুনিক রূপ দেখে গর্ববোধ করতেন। চট্টগ্রামের মানুষ বিশ্বাস করে, সাঈদ আল নোমানের হাত ধরেই মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো বাস্তবায়িত হবে এবং চট্টগ্রাম দেশের এক অনন্য অর্থনৈতিক ও শিক্ষানগরী হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।


জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়ার প্রথম মাজারে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শ্রদ্ধা

আবদুল্লাহ আল নোমানের শূন্যতায় অনন্য সাঈদ আল নোমান

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

রাসেল চৌধুরী :

‎বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে নেতৃত্ব বদল এবং উত্তরাধিকারের গল্প নতুন কিছু নয়। তবে সেই উত্তরাধিকার যখন স্রেফ বংশমর্যাদার দেয়াল ভেঙে গণমানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়, তখন তা হয়ে ওঠে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের বিদায়ের পর চট্টগ্রামের রাজনৈতিক আকাশে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা আজ এক নতুন আশার আলোতে দীপ্তমান। পিতার সেই বিশাল ছায়াকে ধারণ করে, তাঁরই দেখানো আদর্শের রাজপথে সগৌরবে আবির্ভূত হয়েছেন তাঁর সুযোগ্য সন্তান সাঈদ আল নোমান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বাবার আসন চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর, খুলশী, পাহাড়তলী) থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—তিনি কেবল আবদুল্লাহ আল নোমানের রক্তের উত্তরাধিকারী নন, বরং তাঁর রাজনৈতিক দর্শনেরও যোগ্যতম ‘রিপ্লেস’।


‎২০২৫ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজনীতির এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান ঘটে। চট্টগ্রামের কোতোয়ালি আসন থেকে তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সফল সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই প্রস্থান কেবল বিএনপির জন্যই নয়, সমগ্র চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন এমন এক নেতা, যাঁর দরজা দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য সবসময় উন্মুক্ত থাকত।

‎বাবার এই আকস্মিক মৃত্যুর পর যখন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ দিশেহারা, ঠিক তখনই জনমানুষের দাবির মুখে হাল ধরেন সাঈদ আল নোমান। রাজনীতিতে আসার পূর্ব পরিকল্পনা না থাকলেও, পিতৃবিয়োগের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি সাধারণ মানুষের আবদারকে ফিরিয়ে দিতে পারেননি। দলের নেতাকর্মীদের অনুরোধ এবং জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি রাজনীতিতে পা রাখেন এবং বাবার আসনে প্রতিস্থাপিত হন।


‎আবদুল্লাহ আল নোমান এবং সাঈদ আল নোমানের রাজনৈতিক যাত্রার দিকে তাকালে পিতা ও পুত্রের এক অপূর্ব আদর্শিক মেলবন্ধন লক্ষ্য করা যায়। তবে এই দুই প্রজন্মের কাজের ধরনে রয়েছে সমসাময়িক সময়ের এক দারুণ আধুনিকতার ছোঁয়া।

আবদুল্লাহ আল নোমান পরিচিত ছিলেন মাঠপর্যায়ের কর্মী-বান্ধব নেতা হিসেবে। সাঈদ আল নোমানও রাজনীতিতে এসেই প্রথম যে কাজটি করেছেন, তা হলো বাবার মতো করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা। তিনি ড্রয়িংরুম রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন।

পিতা আবদুল্লাহ আল নোমান যখন মন্ত্রী ছিলেন, তখন চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিলেন। সাঈদ আল নোমান পিতার সেই উন্নয়নমুখী ধারাকে বজায় রেখে এর সাথে যুক্ত করেছেন আধুনিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর চিন্তাভাবনা। তিনি যুবসমাজকে আইটি এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখছেন।

এই পিতা-পুত্রের অবদান কেবল রাজনীতির মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়। চট্টগ্রামের উচ্চশিক্ষার প্রসারে তাঁরা যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি’ (ইডিইউ)। আবদুল্লাহ আল নোমানের দূরদর্শিতা এবং সাঈদ আল নোমানের আধুনিক ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিষ্ঠানটি আজ চট্টগ্রামের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়েছে। রাজনীতিতে আসার আগেই সাঈদ আল নোমান শিক্ষার আলো ছড়িয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছিলেন।

‎২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত অত্যন্ত স্বল্প সময়ে সাঈদ আল নোমান তাঁর নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-১০-এ যে সমস্ত দূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাঁর প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য ছিল ডবলমুরিং, হালিশহর ও পাহাড়তলীর মতো বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রধান এলাকাগুলোকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত করা। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ কোনো অপকর্মে লিপ্ত হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। চট্টগ্রামের চিরচেনা সমস্যা জলাবদ্ধতা। সাঈদ আল নোমান তাঁর আসনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার এবং খালগুলো পুনখননের জন্য সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোর সাথে সমন্বয় করে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছেন।

যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং বেকারত্ব দূর করতে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় মিনি আইটি পার্ক ও ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছেন। সপ্তাহে অন্তত একদিন তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য ‘জনতার দরবার’ চালু করেছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি তাদের এমপির কাছে দুঃখ-দুর্দশার কথা জানাতে পারছেন, যা ঠিক তাঁর বাবার আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়।

‎রাজনীতিতে অনেক সময় দেখা যায় পিতার মৃত্যুর পর সন্তানরা কেবল নামের জোরে পদ-পদবি পেয়ে যান, কিন্তু জনগণের মন জয় করতে পারেন না। সাঈদ আল নোমানের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বাবার নামের ওপর ভরসা করে ঘরে বসে থাকেননি।

‎চট্টগ্রামের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন চট্টগ্রামের রাজনীতির এক ‘মহীরুহ’। তাঁর স্থান পূরণ করা যেকোনো তরুণ নেতার জন্য ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। কিন্তু সাঈদ আল নোমান তাঁর মেধা, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি, মার্জিত ভাষা এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজেকে একজন পরিপক্ক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তিনি কেবল নোমান সাহেবের শূন্য আসনটিই পূরণ করেননি, বরং বাবার সততা ও সাহসিকতার আদর্শকেও নিজের ভেতরে ধারণ করেছেন।

‎সাঈদ আল নোমানের এই উদীয়মান নেতৃত্ব কেবল চট্টগ্রাম-১০ আসনের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য একটি রোল মডেল। কাদা ছোঁড়াছুড়ির চেনা রাজনীতির বাইরে গিয়ে তিনি শিক্ষা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণকে তাঁর রাজনীতির মূল হাতিয়ার বানিয়েছেন।

‎পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে সাঈদ আল নোমান আজ চট্টগ্রামের লাখো মানুষের কণ্ঠস্বর। আবদুল্লাহ আল নোমান আজ বেঁচে থাকলে হয়তো ছেলের এই মানবিক ও আধুনিক রূপ দেখে গর্ববোধ করতেন। চট্টগ্রামের মানুষ বিশ্বাস করে, সাঈদ আল নোমানের হাত ধরেই মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো বাস্তবায়িত হবে এবং চট্টগ্রাম দেশের এক অনন্য অর্থনৈতিক ও শিক্ষানগরী হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।