ঢাকা ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইপিজেড-কালুরঘাটের লাখো নারীর স্বস্তি, বন্দরনগরীতে ডানা মেলল ‘পিংক বাস’

  • আপডেট সময় : ০৩:০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • 26

রাসেল চৌধুরী

‎ভোর সাড়ে সাতটা। কালুরঘাট বাস টার্মিনালে ইঞ্জিন স্টার্ট হওয়ার চেনা শব্দের মাঝেও আজ এক অদ্ভুত নীরব রূপান্তর। স্টিয়ারিং হুইলে শক্ত হাত, কন্ডাক্টরের ব্যাগে টিকিটের খসখস শব্দ, আর বাসের গেটে যাত্রীদের স্বাগত জানানোর চেনা হাঁকডাক—সবকিছুতেই এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন। চট্টগ্রামের গণপরিবহনের ইতিহাসে আজ থেকে যুক্ত হলো এক নতুন দিগন্ত। বন্দরনগরীর রাজপথে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বিআরটিসি-র বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’, যা এখন সবার মুখে মুখে ‘গোলাপি বাস’ বা ‘পিংক বাস’।

‎এটি কেবল রঙের দিক থেকে আলাদা কোনো যান নয়; বরং এই বাসের চালক থেকে শুরু করে কন্ডাক্টর ও সুপারভাইজার—সবাই নারী। চট্টগ্রামের কর্মজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নারী যাত্রীদের জন্য এটি এক নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের নতুন স্বপ্ন।


‎এতদিন গণপরিবহনে নারীদের জন্য কয়েকটি আসন সংরক্ষিত থাকলেও, পুরো বাসের নিয়ন্ত্রণ থাকত পুরুষদের হাতে। এবার সেই চেনা দৃশ্যপট বদলে গেছে। স্টিয়ারিং হাতে যখন একজন নারী চালক চট্টগ্রামের ব্যস্ততম সড়ক ধরে বাস এগিয়ে নিয়ে যান, তখন তা কেবল একটি গাড়ি চালানো নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ওঠে। বিআরটিসি-র এই উদ্যোগে চালক ও স্টাফ হিসেবে নারীদের নিয়োগ দেওয়ায় পরিবহন খাতে তৈরি হয়েছে এক নতুন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান।


‎প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি দোতলা (ডাবল ডেকার) বাস দিয়ে এই সেবা চালু করা হয়েছে। বাস দুটি প্রতিদিন চট্টগ্রামের সবচেয়ে দীর্ঘ ও ব্যস্ততম রুট পাড়ি দেবে।

কালুরঘাট (বেতার কেন্দ্র) থেকে শুরু হয়ে কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নং গেইট, জিইসি মোড়, লালখানবাজার, টাইগারপাস, দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, বারিক বিল্ডিং এবং ফ্রি পোর্ট হয়ে কাটগড় ও পতেঙ্গা (ইপিজেড) পর্যন্ত।

কালুরঘাট এবং ইপিজেড—চট্টগ্রামের এই দুটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে প্রতিদিন হাজার হাজার নারী শ্রমিক ও কর্মকর্তা যাতায়াত করেন। সাধারণ বাসে উঠতে গিয়ে প্রতিদিন তাঁদের যে চরম ভোগান্তি ও ভিড়ের মুখোমুখি হতে হতো, এই গোলাপি বাস সেই কষ্টের অবসান ঘটাবে।


‎নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করেনি কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি বাসের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক সিসি (CC) ক্যামেরা। ফলে বাসের ভেতরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সুযোগ থাকবে না। এছাড়া টিকিট কাটার প্রথাগত ঝামেলার অবসান ঘটাতে শতাবাধিক কাউন্টারে আধুনিক পস (POS) মেশিনের মাধ্যমে ডিজিটাল টিকিট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


‎বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত চট্টগ্রামে দুটি বাস দিয়ে এই কার্যক্রমের সূচনা হলেও, নারী যাত্রীদের সাড়া এবং চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দ্রুতই বাসের সংখ্যা এবং রুটের সংখ্যা বাড়ানো হবে। উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা ও বগুড়াতেও আজ একযোগে এই বিশেষ পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

‎এখন থেকে চট্টগ্রামের নারীদের গণপরিবহনের ভিড়ে কনুইয়ের ধাক্কা সামলাতে হবে না, বাসের গেটে ঝুলে থাকা ঝূঁকি নিতে হবে না। গোলাপি বাসের হাত ধরে বন্দরনগরীর নারীরা এখন ঘরের বাইরেও পাবেন তাঁদের নিজস্ব, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ এক টুকরো আকাশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়ার প্রথম মাজারে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শ্রদ্ধা

ইপিজেড-কালুরঘাটের লাখো নারীর স্বস্তি, বন্দরনগরীতে ডানা মেলল ‘পিংক বাস’

আপডেট সময় : ০৩:০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

রাসেল চৌধুরী

‎ভোর সাড়ে সাতটা। কালুরঘাট বাস টার্মিনালে ইঞ্জিন স্টার্ট হওয়ার চেনা শব্দের মাঝেও আজ এক অদ্ভুত নীরব রূপান্তর। স্টিয়ারিং হুইলে শক্ত হাত, কন্ডাক্টরের ব্যাগে টিকিটের খসখস শব্দ, আর বাসের গেটে যাত্রীদের স্বাগত জানানোর চেনা হাঁকডাক—সবকিছুতেই এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন। চট্টগ্রামের গণপরিবহনের ইতিহাসে আজ থেকে যুক্ত হলো এক নতুন দিগন্ত। বন্দরনগরীর রাজপথে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বিআরটিসি-র বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’, যা এখন সবার মুখে মুখে ‘গোলাপি বাস’ বা ‘পিংক বাস’।

‎এটি কেবল রঙের দিক থেকে আলাদা কোনো যান নয়; বরং এই বাসের চালক থেকে শুরু করে কন্ডাক্টর ও সুপারভাইজার—সবাই নারী। চট্টগ্রামের কর্মজীবী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নারী যাত্রীদের জন্য এটি এক নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের নতুন স্বপ্ন।


‎এতদিন গণপরিবহনে নারীদের জন্য কয়েকটি আসন সংরক্ষিত থাকলেও, পুরো বাসের নিয়ন্ত্রণ থাকত পুরুষদের হাতে। এবার সেই চেনা দৃশ্যপট বদলে গেছে। স্টিয়ারিং হাতে যখন একজন নারী চালক চট্টগ্রামের ব্যস্ততম সড়ক ধরে বাস এগিয়ে নিয়ে যান, তখন তা কেবল একটি গাড়ি চালানো নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ওঠে। বিআরটিসি-র এই উদ্যোগে চালক ও স্টাফ হিসেবে নারীদের নিয়োগ দেওয়ায় পরিবহন খাতে তৈরি হয়েছে এক নতুন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান।


‎প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে দুটি দোতলা (ডাবল ডেকার) বাস দিয়ে এই সেবা চালু করা হয়েছে। বাস দুটি প্রতিদিন চট্টগ্রামের সবচেয়ে দীর্ঘ ও ব্যস্ততম রুট পাড়ি দেবে।

কালুরঘাট (বেতার কেন্দ্র) থেকে শুরু হয়ে কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নং গেইট, জিইসি মোড়, লালখানবাজার, টাইগারপাস, দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, বারিক বিল্ডিং এবং ফ্রি পোর্ট হয়ে কাটগড় ও পতেঙ্গা (ইপিজেড) পর্যন্ত।

কালুরঘাট এবং ইপিজেড—চট্টগ্রামের এই দুটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে প্রতিদিন হাজার হাজার নারী শ্রমিক ও কর্মকর্তা যাতায়াত করেন। সাধারণ বাসে উঠতে গিয়ে প্রতিদিন তাঁদের যে চরম ভোগান্তি ও ভিড়ের মুখোমুখি হতে হতো, এই গোলাপি বাস সেই কষ্টের অবসান ঘটাবে।


‎নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করেনি কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি বাসের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক সিসি (CC) ক্যামেরা। ফলে বাসের ভেতরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সুযোগ থাকবে না। এছাড়া টিকিট কাটার প্রথাগত ঝামেলার অবসান ঘটাতে শতাবাধিক কাউন্টারে আধুনিক পস (POS) মেশিনের মাধ্যমে ডিজিটাল টিকিট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


‎বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত চট্টগ্রামে দুটি বাস দিয়ে এই কার্যক্রমের সূচনা হলেও, নারী যাত্রীদের সাড়া এবং চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দ্রুতই বাসের সংখ্যা এবং রুটের সংখ্যা বাড়ানো হবে। উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা ও বগুড়াতেও আজ একযোগে এই বিশেষ পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

‎এখন থেকে চট্টগ্রামের নারীদের গণপরিবহনের ভিড়ে কনুইয়ের ধাক্কা সামলাতে হবে না, বাসের গেটে ঝুলে থাকা ঝূঁকি নিতে হবে না। গোলাপি বাসের হাত ধরে বন্দরনগরীর নারীরা এখন ঘরের বাইরেও পাবেন তাঁদের নিজস্ব, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ এক টুকরো আকাশ।