চট্টগ্রাম নগরীর আকবরশাহ থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চোরাই স্বর্ণালংকার বিক্রির নগদ ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা, ৭ ভরি স্বর্ণালংকার, দুটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও স্বর্ণ পরিমাপের নিক্তিসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
সিএমপির আকবরশাহ থানা পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুলাই ২০২৬ দুপুরে আকবরশাহ থানাধীন সিটি গেইট এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. আলমগীর মিয়া স্ত্রীকে নিয়ে ইপিক হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে যান। এ সময় সুযোগ বুঝে চোরেরা তার বাসার দরজার হুক কেটে ভেতরে প্রবেশ করে স্টিলের আলমারি ভেঙে বিভিন্ন স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, সৌদি রিয়াল ও একটি আইফোন চুরি করে নিয়ে যায়।
একই সময়ে তার প্রতিবেশী নুরুল ইসলামের বাসাতেও দরজার হুক ও আলমারির তালা ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন চুরি করা হয়।
এ ঘটনায় আলমগীর মিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে আকবরশাহ থানায় গত ৩১ জুলাই মামলা নম্বর-৩০, ধারা ৪৫৪/৩৮০ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা তদন্তে সিএমপি পুলিশ কমিশনারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আকবরশাহ থানার একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় ৬ আগস্ট ডবলমুরিং থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসিম (৪৫) ও *মোস্তাকিন হোসেন মিঠু (৪৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৭ আগস্ট কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেতু দাস প্রকাশ সালাউদ্দিন (৪৩), মোহাম্মদ আলী (৪৩) ও **দেবব্রত বণিক প্রকাশ বলাই বণিক (৩৭)*কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ আগস্ট ডবলমুরিং থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. ইসমাইল (৩৩) এবং ১৯ আগস্ট একই থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে *ফারজানা বেগম (৩৮)*কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী তার বাসা থেকে স্বর্ণ পরিমাপের নিক্তি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ড্রামের ভেতরে চালের মধ্যে পলিথিনে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ১৫ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা এবং একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার কোতোয়ালী থানাধীন তাতীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২টি নেকলেস, ৩টি চেইন, ১ জোড়া কানের দুল ও ১টি আংটিসহ মোট ৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সেতু দাস প্রকাশ সালাউদ্দিন, জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসিম ও মোস্তাকিন হোসেন মিঠুকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া মোহাম্মদ আলী ও ফারজানা বেগম আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে সেতু দাস প্রকাশ সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ৬টি, জসিম উদ্দিন প্রকাশ জসিমের বিরুদ্ধে ৬টি, মোস্তাকিন হোসেন মিঠুর বিরুদ্ধে ৯টি এবং মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে ৭টি মামলা রয়েছে।
চুরি হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা চোর ও চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পারভেজ বাঙালী চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি 








