নিজস্ব প্রতিবেদক
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, সুফীবাদের অমিয় বাণী আর আশেক-ভক্তদের মহামিলনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক কেন্দ্র মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে সম্পন্ন হয়েছে হাদিউল আশেকিন হযরত মাওলানা শাহ সুফি ছৈয়দ আবুল ফজল আল্ মাইজভান্ডারী (রঃ)-এর ১৯তম পবিত্র বার্ষিক ওরশ শরীফ। গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী নানামুখী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দরবারের ঐতিহ্যবাহী “গাউছিয়া ওহাব মঞ্জিলে” এই আধ্যাত্মিক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পবিত্র ওরশ শরীফ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং সুদূর বিদেশ থেকেও লাখো আশেক ও ভক্ত অনুরাগী ছুটে আসেন এই পুণ্যভূমিতে। দরবার জুড়েই দিনভর চলে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, নাত-এ রাসুল এবং শানে আউলিয়া পরিবেশন। ভক্তদের জিকির ও সুফী ঘরানার আধ্যাত্মিক কালামে পুরো এলাকায় এক স্বর্গীয় ও উৎসবমুখর আবহের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের মূল আলোচনা সভায় দরবারের প্রধান বক্তা ও ওলামায়ে কেরামগণ হযরত মাওলানা শাহ সুফি ছৈয়দ আবুল ফজল আল্ মাইজভান্ডারী (রঃ)-এর জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করেন। বক্তারা বলেন, “মাইজভাণ্ডারী দর্শন মূলত মানবতাবাদ, পরম পরমতসহিষ্ণুতা ও বিশ্বশান্তির প্রতীক। ছৈয়দ আবুল ফজল আল্ মাইজভান্ডারী (রঃ) আজীবন মানুষকে খোদাভীতি, রাসুলের (সাঃ) সুন্নাহ ও সৃষ্টির প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করাই এই দর্শনের মূল কথা।”
মহাসমাবেশের মূল আকর্ষণ ছিল মধ্যরাতের আখেরি মোনাজাত। দরবারের বর্তমান সাজ্জাদানশীনের পরিচালনায় আধ্যাত্মিক এই ক্ষণে লাখো ভক্ত অশ্রুসিক্ত চোখে পরম করুণাময়ের দরবারে হাত তোলেন। মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, দেশের শান্তি, অগ্রগতি এবং বিশ্বমানবতার মুক্তি কামনা করা হয়। আখেরি মোনাজাত শেষে উপস্থিত লাখো মানুষের মাঝে ঐতিহ্যবাহী তাবাররুক বিতরণের মধ্য দিয়ে ১৯তম বার্ষিক ওরশ শরীফের সমাপ্তি ঘটে।

সংশ্লিষ্ট ও সুধীজনরা মনে করেন, বর্তমান অশান্ত ও সহিংস পৃথিবীতে শান্তির সুবাতাস ছড়াতে ছৈয়দ আবুল ফজল আল্ মাইজভাণ্ডারীর এই সুফীবাদী ও উদার জীবনদর্শন এক অনন্য এবং বড় পাথেয় হতে পারে।











