শহীদ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও বৃক্ষরোপণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী স্মরণে বর্ণাঢ্য ও মানবিক নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে পেশাজীবী সংগঠন এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব), চট্টগ্রাম বিভাগ। এই উপলক্ষ্যে আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আলোচনা সভা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, বৃক্ষরোপণ এবং চট্টগ্রাম জেলার শহীদ পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
গতকাল ১৫ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) আইইবি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ‘শহীদ প্রকৌশলী শামসুজ্জামান-শহীদ প্রকৌশলী নুর হোসেন মিলনায়তনে’ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশের এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দ্বিতীয় বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে প্রকৌশলীদের এই মিলনমেলা এক আবেগঘন পরিবেশে রূপ নেয়।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রাম জেলায় প্রাণ হারানো বীর শহীদদের পরিবারের উপস্থিতি। এ্যাব, চট্টগ্রাম বিভাগের পক্ষ থেকে অত্যন্ত সশ্রদ্ধ চিত্তে এসব শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তার অনুদান তুলে দেওয়া হয়। সহায়তাপ্রাপ্ত পরিবারগুলো এ্যাবের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতি এবং বীরত্বগাথা নিয়ে একটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। তথ্যচিত্রে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের গৌরবময় অধ্যায়গুলো নিখুঁতভাবে ফুটে ওঠে, যা উপস্থিত দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।
তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর পর অনুষ্ঠিত হয় এক উন্মুক্ত মতবিনিময় ও আলোচনা সভা। এতে বক্তারা বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের ছাত্র-জনতা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে, তা রক্ষায় পেশাজীবীদের, বিশেষ করে প্রকৌশলী সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সেই প্রতিজ্ঞা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।” বক্তারা দেশের চলমান পুনর্গঠন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় প্রকৌশলীদের মেধা ও শ্রমকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়নের অঙ্গীকার নিয়ে আইইবি চত্বরে একটি প্রতীকী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ প্রকৌশলীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বৃক্ষরোপণে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে এ্যাব চট্টগ্রাম বিভাগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষক এবং চট্টগ্রামের বিপুল সংখ্যক সাধারণ প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী, সুশৃঙ্খল এবং দেশাত্মবোধক আবহ তৈরি করতে সক্ষম হয়।











