কুড়িগ্রামের উলিপুরে দাদা মোকছেদ আলী বাচ্চু (৬৭) কে গলা কেটে হত্যার করেছে নাতি। হত্যাকান্ডে ঘাতক নাতি রাব্বি মিয়া (১৯) কে আটক করেছে থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে, বুধবার (২০ অক্টোবর) উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের পন্ডিত পাড়া এলাকায়।
পুলিশ জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যান নিহতের ভাতিজার ছেলে রাব্বি (২২)। পরে তাঁর মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে তাঁর নানাবাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ মধুপুর ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন একটি পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, ছুরিটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল।
নিহতের ছেলে মোতালেব হোসেন জানান, একাব্বর আলীর প্রতিবেশি আমাকে ফোন করে জানায় আমার পিতাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সকালে আমি এখানে আসি। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক আমরা তাদের বিচার চাই।
এদিকে নিহতের মেয়ে সুইটি বেগম তাঁর বাবার হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিবারের আরেক সদস্যের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাচ্চু মিয়া প্রায় ৪০ বছর ধরে রংপুর মহানগরের মাহিগঞ্জ থানার নব্দিগঞ্জ কলাবাড়ি এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। দুই দিন আগে তিনি উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের পণ্ডিতপাড়া গ্রামে বেড়াতে আসেন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে বড় ভাই এক্কাবর আলীর ছেলে মিঠু মিয়ার বাড়িতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাব্বি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। রাতে তিনি তাঁর ছোট দাদা বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমাতে যান। পরে রাত আনুমানিক একটার দিকে রাব্বি তাঁর দাদা এক্কাবর আলী ও দাদিকে ডেকে তুলে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান।
এক্কাবর আলীর ভাষ্য, ঘুম থেকে উঠে তাঁরা রাব্বির হাতে গামছা দিয়ে প্যাঁচানো রক্তমাখা একটি ছুরি দেখতে পান। পরে রাব্বি ছুরিটি মাটিতে ফেলে দেন। ঘরের ভেতরে গিয়ে তাঁরা বাচ্চু মিয়াকে বিছানায় ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর একটি পা বিচ্ছিন্ন
ছিল। স্বজনদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসার আগেই রাব্বি পালিয়ে যান বলে জানান তিনি।
বাবাকে ডেকে নেওয়া নিয়ে মেয়ের সন্দেহ সুইটি বেগম বলেন, তাঁর বাবা প্রতিবছর গ্রামে বেড়াতে আসতেন। সাধারণত তিনি এক্কাবর আলীর বাড়িতে খাওয়াদাওয়া বা রাতযাপন করতেন না। এবারও তিনি যে বাড়িতে সাধারণত উঠতেন, সেখানেই উঠেছিলেন। ওই বাড়ির বড় আম্মু তাঁর বাবার জন্য রাতে ঘুমানোর বিছানাও তৈরি করে রেখেছিলেন।
সুইটির অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের রাতে সেখান থেকে তাঁর বাবাকে ডেকে এক্কাবর আলীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁকে ভাত খাওয়ানো হয়। পরে ওই বাড়িতে নাতি রাব্বির সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমানোর ব্যবস্থা করা হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের পেছনে এক্কাবর আলীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
নিহতের ছেলে মোতালেব হোসেন বলেন, তাঁর বাবার হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করা হোক। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ৭
( সাত) ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি পুকুর থেকে ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
মোঃ রেজাউল ইসলাম সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 


















