যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ১১ নম্বর বাঁকড়া ইউনিয়নে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এরই মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা, প্রতিকূল সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থাকা এবং সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে আলোচনায় উঠে এসেছে এস এম মনিরুল ইসলামের নাম। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন তাঁর সমর্থকদের অনেকে।
দলীয় রাজনীতির বাইরেও জনসম্পৃক্ততা, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানুষের পাশে থাকার মানসিকতাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যিনিই ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্বে আসুন, তাঁকে যেন সাধারণ মানুষের অধিকার, এলাকার উন্নয়ন এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে দেখা যায়।
রাজনৈতিক পরিবার ও দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা
এস এম মনিরুল ইসলাম একটি রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত পরিবারের সদস্য। তাঁর ভাই আমিরুল ইসলাম ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মনিরুল ইসলাম নিজেও একসময় থানা যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের কাছে তিনি পরিচিত মুখ। তাঁর সমর্থকদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়েও তিনি দলীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থেকে সাংগঠনিক যোগাযোগ ও নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন।
প্রতিকূল সময়ে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার দাবি
বিগত বছরগুলোতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নানা পরিবর্তন ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে গেছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পরবর্তী সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাঁকড়া ইউনিয়নে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ধরে রাখার ক্ষেত্রে এস এম মনিরুল ইসলামের ভূমিকা ছিল বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা দাবি করেন।
পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক হওয়ায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার ক্ষেত্রে পেশাগত ঝুঁকি ও চাপের আশঙ্কা ছিল বলেও তাঁর সমর্থকদের বক্তব্য। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
তবে এসব রাজনৈতিক ভূমিকা ও ত্যাগের মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট সময়ের ঘটনাপ্রবাহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
নেতৃত্বের প্রশ্নে সামনে জনসেবার প্রত্যাশা
বাঁকড়া ইউনিয়নের সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামোর উন্নয়ন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করাও এর অন্যতম কাজ।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাঁদের পরিকল্পনা ও কর্মসূচির মাধ্যমে এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান, সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও তাঁদের মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।
এস এম মনিরুল ইসলামের সমর্থকেরা মনে করেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা তাঁকে ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রাখতে পারে। তবে চূড়ান্ত মূল্যায়ন নির্ভর করবে তাঁর জনসম্পৃক্ততা, উন্নয়ন পরিকল্পনা, ব্যক্তিগত সততা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের সক্ষমতার ওপর।
জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে শেষ কথা জনগণের
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও একজন প্রার্থীর যোগ্যতা নির্ধারণের একমাত্র মানদণ্ড তা নয়। মানুষের পাশে থাকার বাস্তব নজির, এলাকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ, সবার জন্য সমান সুযোগ এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বই শেষ পর্যন্ত একজন জনপ্রতিনিধির গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ করে।
এস এম মনিরুল ইসলামকে ঘিরে বাঁকড়া ইউনিয়নে যে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচনের সম্ভাব্য সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে নির্বাচনের মাঠে তাঁর অবস্থান শক্তিশালী করতে হলে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি জনসেবার পরিকল্পনা, উন্নয়নের রূপরেখা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহির অঙ্গীকার সামনে আনতে হবে।
বাঁকড়া ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে শেষ পর্যন্ত জনগণের মতামত, প্রার্থীদের যোগ্যতা এবং তাঁদের কাজের বাস্তব মূল্যায়নই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আবু রাসেল যশোর জেলা প্রতিনিধি দৈনিক দেশের কাগজ 


















