ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে অনলাইন প্রতারণার ‘সেফ হাউসে’ অভিযান, ৬৩ বিদেশি গ্রেপ্তার

চীন-পাকিস্তানসহ ৫ দেশের নাগরিক; উদ্ধার ১৩৪ মোবাইল, ৫৭ ল্যাপটপ

 

 

 

চট্টগ্রামের খুলশীতে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি আন্তর্জাতিক চক্রের ৬৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস ধরে খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। বাড়িটি একজন দুবাইপ্রবাসীর বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানে ওই বাড়ি থেকে অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন অপরাধের অভিযোগ

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিএমপি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অন্যান্য অনলাইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।

বাংলাদেশে তাদের কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য দেশি-বিদেশি কয়েকজন সহযোগীও রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এসব সহযোগীর মধ্যে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে গ্রেপ্তাররা।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ও তাদের পলাতক সহযোগীরা পারস্পরিক যোগসাজশে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং আইনানুগ কর্তৃত্ববহির্ভূত ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অপরাধ করে আসছিলেন।

বিপুল ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার

অভিযানে উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে—

– বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩৪টি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন
– ৫৭টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ
– ১টি Apple ট্যাব
– ১টি সাদা রঙের সিপিইউ
– ১টি Samsung মনিটর
– ১টি কিবোর্ড
– ১টি মাউস
– ১টি কালো রঙের প্রিন্টার
– বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫টি পেনড্রাইভ
– বিভিন্ন কোম্পানির ৪টি সিমকার্ড
– ৩টি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র
– ১টি Cambodian Employment Card

আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন

সিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ গফরগাঁয়ে জমে উঠেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনী হাওয়ায়

চট্টগ্রামে অনলাইন প্রতারণার ‘সেফ হাউসে’ অভিযান, ৬৩ বিদেশি গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৯:৪০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীন-পাকিস্তানসহ ৫ দেশের নাগরিক; উদ্ধার ১৩৪ মোবাইল, ৫৭ ল্যাপটপ

 

 

 

চট্টগ্রামের খুলশীতে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি আন্তর্জাতিক চক্রের ৬৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস ধরে খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। বাড়িটি একজন দুবাইপ্রবাসীর বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানে ওই বাড়ি থেকে অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন অপরাধের অভিযোগ

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিএমপি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অন্যান্য অনলাইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।

বাংলাদেশে তাদের কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য দেশি-বিদেশি কয়েকজন সহযোগীও রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এসব সহযোগীর মধ্যে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে গ্রেপ্তাররা।

পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ও তাদের পলাতক সহযোগীরা পারস্পরিক যোগসাজশে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং আইনানুগ কর্তৃত্ববহির্ভূত ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অপরাধ করে আসছিলেন।

বিপুল ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার

অভিযানে উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে—

– বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩৪টি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন
– ৫৭টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ
– ১টি Apple ট্যাব
– ১টি সাদা রঙের সিপিইউ
– ১টি Samsung মনিটর
– ১টি কিবোর্ড
– ১টি মাউস
– ১টি কালো রঙের প্রিন্টার
– বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫টি পেনড্রাইভ
– বিভিন্ন কোম্পানির ৪টি সিমকার্ড
– ৩টি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র
– ১টি Cambodian Employment Card

আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন

সিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।