ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দারুসসালাম জামে মসজিদের পথে এক যুগের দুর্ভোগ টয়লেটের ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ চলাচলের রাস্তা, ক্ষোভে মুসল্লিরা

 

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়া, পূর্বপাড়া, শিশিরীপাড়া ও বলী ফরিদের বাড়ি সংলগ্ন এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা ও দারুসসালাম জামে মসজিদে যাতায়াতের পথ নিয়ে চরম দুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক যুগ ধরে হাজি আবুল কাশেম প্রকাশ মগ কাছিমের বাড়ির টয়লেটের সেফটি ট্যাংকি না থাকায় ময়লা ও বর্জ্য চলাচলের রাস্তার ওপর ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ, নোংরা পরিবেশ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ মুসল্লিদের।
দারুসসালাম জামে মসজিদ কমিটির অভিযোগ, রাস্তার এমন বেহাল অবস্থার কারণে এলাকার অনেক মানুষ নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়তে আসতে পারছেন না। মসজিদের দক্ষিণ পাশের রাস্তাটিও পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মৌলভি শাহা আলম অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। সেফটি ট্যাংকি নির্মাণ করে সমস্যার সমাধান করার আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রায় এক যুগেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
একই অভিযোগ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় সভাপতি জয়নাল আবেদীন, বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দারুসসালাম জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মৌলভি আব্দুল হাফেজ। তাদের দাবি, একটি মসজিদে মুসল্লিদের যাতায়াতের পথে এ ধরনের পরিবেশ তৈরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও জনস্বার্থবিরোধী।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা ও জমি দখলের চেষ্টাসহ বিভিন্ন বিষয়ে হাজি আবুল কাশেম প্রকাশ মগ কাছিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আইনগত অবস্থান যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে দৈনিক খবর কক্সবাজারের সাংবাদিক সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে মসজিদের দক্ষিণ পাশের রাস্তার বেহাল অবস্থা, বর্ষার পানি ও চলাচলের দুর্ভোগের চিত্র দেখতে পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে হাজি আবুল কাশেম প্রকাশ মগ কাছিমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার জায়গায় আমার টয়লেটের ময়লা ফেললে তাদের কেন এত জ্বলে?”—এমন বক্তব্য দেন বলে প্রতিবেদকের দাবি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—একটি বাড়িতে কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব হলেও সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তার পাশে একটি সেফটি ট্যাংকি নির্মাণ করা হচ্ছে না কেন?
মুসল্লি ও এলাকাবাসীর দাবি, ধর্মীয় উপাসনালয়ে যাতায়াতের পথসহ জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা দ্রুত পরিষ্কার ও সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি টয়লেটের বর্জ্য যাতে আর রাস্তায় না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
দীর্ঘ এক যুগের এই জনদুর্ভোগের অবসানে প্রশাসন এবার শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন ফার্মেসির দোকানে অভিযান

দারুসসালাম জামে মসজিদের পথে এক যুগের দুর্ভোগ টয়লেটের ময়লা-আবর্জনায় বন্ধ চলাচলের রাস্তা, ক্ষোভে মুসল্লিরা

আপডেট সময় : ০৬:০৮:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়া, পূর্বপাড়া, শিশিরীপাড়া ও বলী ফরিদের বাড়ি সংলগ্ন এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা ও দারুসসালাম জামে মসজিদে যাতায়াতের পথ নিয়ে চরম দুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক যুগ ধরে হাজি আবুল কাশেম প্রকাশ মগ কাছিমের বাড়ির টয়লেটের সেফটি ট্যাংকি না থাকায় ময়লা ও বর্জ্য চলাচলের রাস্তার ওপর ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ, নোংরা পরিবেশ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ মুসল্লিদের।
দারুসসালাম জামে মসজিদ কমিটির অভিযোগ, রাস্তার এমন বেহাল অবস্থার কারণে এলাকার অনেক মানুষ নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়তে আসতে পারছেন না। মসজিদের দক্ষিণ পাশের রাস্তাটিও পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মৌলভি শাহা আলম অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। সেফটি ট্যাংকি নির্মাণ করে সমস্যার সমাধান করার আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রায় এক যুগেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
একই অভিযোগ করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় সভাপতি জয়নাল আবেদীন, বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দারুসসালাম জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মৌলভি আব্দুল হাফেজ। তাদের দাবি, একটি মসজিদে মুসল্লিদের যাতায়াতের পথে এ ধরনের পরিবেশ তৈরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও জনস্বার্থবিরোধী।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা ও জমি দখলের চেষ্টাসহ বিভিন্ন বিষয়ে হাজি আবুল কাশেম প্রকাশ মগ কাছিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আইনগত অবস্থান যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে দৈনিক খবর কক্সবাজারের সাংবাদিক সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে মসজিদের দক্ষিণ পাশের রাস্তার বেহাল অবস্থা, বর্ষার পানি ও চলাচলের দুর্ভোগের চিত্র দেখতে পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে হাজি আবুল কাশেম প্রকাশ মগ কাছিমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার জায়গায় আমার টয়লেটের ময়লা ফেললে তাদের কেন এত জ্বলে?”—এমন বক্তব্য দেন বলে প্রতিবেদকের দাবি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—একটি বাড়িতে কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব হলেও সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তার পাশে একটি সেফটি ট্যাংকি নির্মাণ করা হচ্ছে না কেন?
মুসল্লি ও এলাকাবাসীর দাবি, ধর্মীয় উপাসনালয়ে যাতায়াতের পথসহ জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা দ্রুত পরিষ্কার ও সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি টয়লেটের বর্জ্য যাতে আর রাস্তায় না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
দীর্ঘ এক যুগের এই জনদুর্ভোগের অবসানে প্রশাসন এবার শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।