রাজধানীর মালিবাগের সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ শাখা থেকে নিচে পড়ে অমিত ঘোষ (১৬) নামের দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীটির মৃত্যুর নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চাপ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক সমাজ।
আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের ১১ তলা থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। আহত অমিত ঘোষ ওই প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি ভার্সনের ‘আইসোটোপ’ (Isotope) সেকশনের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ঘটনার পর সাউথ পয়েন্ট স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষক সংবাদমাধ্যমকে জানান, অমিত আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল এবং বর্তমানে সে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন ওই শিক্ষক।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ওই নোটটি বর্তমানে স্কুলটির কো-অর্ডিনেটর আসমা আক্তারের জিম্মায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে নোটে ঠিক কী লেখা ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
শিক্ষার্থীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, আজ দুপুর ১টার দিকে রামপুরা থানার পুলিশ দল স্কুল ক্যাম্পাস পরিদর্শনে আসে। তবে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় এ ঘটনায় কোনো মামলা কিংবা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, স্কুলটির ৬ নম্বর ভবনে নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ১১ তলার ছাদটি খোলা রাখা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের সেখানে প্রবেশাধিকার নিষেধ থাকা সত্ত্বেও অমিত কেন এবং কীভাবে সেখানে গেল, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ পড়ালেখার অতিরিক্ত চাপের কথা অনানুষ্ঠানিকভাবে বললেও, প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে জোরালো অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একটি তাজা প্রাণের এমন করুণ পরিণতি কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক চাপ, পারিবারিক বা মানসিক টানাপোড়েন কিংবা কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্বহীনতা জড়িত কি না—তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সবাই।
নিজস্ব প্রতিবেদক। ফয়সাল আহমেদ 


















