ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানীর পর ইটের আঘাতে ভেঙে দেওয়া হয় আঙুল, থানায় অভিযোগ


‎নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শেফালী আক্তার (৪০) নামে
‎এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির পর ইটের আঘাতে আঙুল ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেইসাথে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় ওই গৃহবধূকে।

‎এ ঘটনায় গতকাল শনিবার ভুক্তভোগী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
‎তবে আজ রোববার বিকাল পর্যন্ত ঘটনাস্থলে যায়নি পুলিশ।

‎ভুক্তভোগী শেফালী আক্তার উপজেলার পানুর গ্রামের উমর চানের স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী। তার স্বামী দিনমজুর।

‎অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন- উপজেলার পানুর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে লাল চাঁন (৪৩)। তিনি সম্পর্কে শেফালী আক্তারের দেবর হন।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে পানুর চরপাড়া এলাকার এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে যান শেফালি। সেখানে লাল চাঁনও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পারিবারিক বিষয় তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে লাল চাঁন শেফালীর চুলের মুঠি ধরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন।
‎মারধরের একপর্যায়ে লাল চাঁন একটি ইট দিয়ে শেফালীর মাথায় আঘাত করেন। দ্বিতীয়বার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তাঁর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

‎শেফালীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে অটোরিকশায় করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ভাঙা আঙুলের প্লাস্টার করার পাশাপাশি অন্যান্য আঘাতেরও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অবস্থা জটিল হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে রেফার করেন।

‎ভুক্তভোগী শেফালী বলেন, স্থানীয় লোকজন ছুটে না এলে লাল চাঁন আমাকে মেরেই ফেলত। চিকিৎসক আমাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছিল। কিন্তু টাকার অভাবে যেতে পারিনি।

‎তিনি বলেন, এর আগেও লাল চাঁন আমাকে মারধর করে বাম হাত ভেঙে দিয়েছিলেন। সে প্রভাবশালী আর আমরা দিনমজুর, তাই এভাবে মারধর করলেও বিচার পাই না।

‎এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত লাল চাঁনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

‎অভিযোগের কপি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুনের বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি বলেন, দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানীর পর ইটের আঘাতে ভেঙে দেওয়া হয় আঙুল, থানায় অভিযোগ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানীর পর ইটের আঘাতে ভেঙে দেওয়া হয় আঙুল, থানায় অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:১১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‎নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শেফালী আক্তার (৪০) নামে
‎এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির পর ইটের আঘাতে আঙুল ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেইসাথে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় ওই গৃহবধূকে।

‎এ ঘটনায় গতকাল শনিবার ভুক্তভোগী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
‎তবে আজ রোববার বিকাল পর্যন্ত ঘটনাস্থলে যায়নি পুলিশ।

‎ভুক্তভোগী শেফালী আক্তার উপজেলার পানুর গ্রামের উমর চানের স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী। তার স্বামী দিনমজুর।

‎অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন- উপজেলার পানুর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে লাল চাঁন (৪৩)। তিনি সম্পর্কে শেফালী আক্তারের দেবর হন।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে পানুর চরপাড়া এলাকার এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে যান শেফালি। সেখানে লাল চাঁনও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পারিবারিক বিষয় তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে লাল চাঁন শেফালীর চুলের মুঠি ধরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন।
‎মারধরের একপর্যায়ে লাল চাঁন একটি ইট দিয়ে শেফালীর মাথায় আঘাত করেন। দ্বিতীয়বার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তাঁর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

‎শেফালীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে অটোরিকশায় করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ভাঙা আঙুলের প্লাস্টার করার পাশাপাশি অন্যান্য আঘাতেরও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অবস্থা জটিল হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে রেফার করেন।

‎ভুক্তভোগী শেফালী বলেন, স্থানীয় লোকজন ছুটে না এলে লাল চাঁন আমাকে মেরেই ফেলত। চিকিৎসক আমাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেছিল। কিন্তু টাকার অভাবে যেতে পারিনি।

‎তিনি বলেন, এর আগেও লাল চাঁন আমাকে মারধর করে বাম হাত ভেঙে দিয়েছিলেন। সে প্রভাবশালী আর আমরা দিনমজুর, তাই এভাবে মারধর করলেও বিচার পাই না।

‎এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত লাল চাঁনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

‎অভিযোগের কপি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুনের বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি বলেন, দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।