ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নম্বরের উদারতায় লাগাম

এসএসসিতে পাসের হার ৬২.২৫%, মেধার রাজত্বে ছাত্রীরাই সেরা

  • বিশেষ সংবাদ
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • 19

বিশেষ প্রতিবেদন :

‎পরীক্ষার খাতায় কৃত্রিম নম্বর বাড়িয়ে পাসের অবাস্তব উৎসব করার দিন এবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো। সম্পূর্ণ নতুন ও কঠোর ‘রিয়েল ইভালুয়েশন’ বা প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন পদ্ধতির প্রথম ধাক্কায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় পতন ঘটেছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের গড় হার দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশ। তবে পাসের সূচক নিম্নমুখী হলেও এবারের ফলাফলের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছে নারী শিক্ষার্থীরা, যারা সংখ্যা এবং মেধা উভয় দিক থেকেই ছেলেদের স্পষ্ট ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে।

‎আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশের ঘোষণা দেন শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

‎ফলাফলের এই নিম্নমুখী হার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের করা তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও আপসহীন বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন: “ফলাফল খারাপ হয়েছে—এই তত্ত্বে আমি বিশ্বাসী নই। বরং যা হয়েছে তা বাস্তবসম্মত এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আসল চিত্র। আপনারা মুক্তকণ্ঠে প্রাণ খুলে গান গাইতে পারেন, কিন্তু পরীক্ষার খাতায় শিক্ষকেরা মুক্তহস্তে কিংবা বানিয়ে বানিয়ে নম্বর দিতে পারেন না। আমরা গুণগত শিক্ষার দিকে হাঁটছি। কৃত্রিমভাবে পাসের হার বাড়িয়ে মেধার অপচয় করার দিন শেষ। শিক্ষার্থীদের এখন থেকে মুখস্থ বিদ্যা বাদ দিয়ে প্রকৃত মেধার পরিচয় দিতে হবে।”

‎এবারের গড় পাসের হারে শীর্ষে থাকা ঢাকা বোর্ডের বড় বড় শহরের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের রাজত্ব ধরে রেখেছে। রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারও শতভাগ শিক্ষার্থী পাসের গৌরব অর্জন করেছে।

‎রাজশাহী বোর্ড (পাসের হার ৬৩.৬৭%): গত সাত বছরের মধ্যে এটিই রাজশাহীর সর্বনিম্ন পাসের রেকর্ড। গণিত ও ইংরেজিতে মফস্বলের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক মার খেলেও ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল এবং সরকারি প্রমথনাথ (পিএন) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে।

‎চট্টগ্রাম বোর্ড (পাসের হার ৫৯.৪৮%): বন্দরনগরীর এই বোর্ডে পাসের হার প্রায় এক ধাক্কায় অনেক কমে গেছে। তবে এই বিপর্যয়ের মধ্যেও চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ও ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শতভাগ পাস ও সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পাওয়ার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

‎সিলেট বোর্ড (পাসের হার ৫৮.৩৩%): ইংরেজি ও গণিতের কঠিন প্রশ্নে মফস্বলের বিদ্যালয়গুলো ধুঁকলেও সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্লু বার্ড হাই স্কুল বরাবরের মতোই চমৎকার জিপিএ-৫ পেয়ে বোর্ডের মুখ রক্ষা করেছে।


‎চলতি বছরের ফলাফলের অভ্যন্তরীণ রসায়ন বলছে, ছাত্ররা এবার ছাত্রীদের কাছে রীতিমতো পরাস্ত হয়েছে। ছেলেদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। ছাত্রীদের পাসের হার যেখানে ৬৬.৬৮ শতাংশ, সেখানে ছাত্রদের পাসের হার মাত্র ৫৭.৮৬ শতাংশ।

‎মোট ১,১৬,৬৭৬ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৩,৮৯৬ জন ছাত্রী এবং ৫২,৭৮০ জন ছাত্র। অর্থাৎ মেধা তালিকার শীর্ষে ছাত্রদের চেয়ে ১১,৪০১ জন বেশি ছাত্রী অবস্থান করছে।


‎ফলাফলে অসন্তুষ্ট বা সংক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা আগামীকাল ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। শিক্ষা বোর্ড নিয়ন্ত্রিত অনলাইন পোর্টাল ও টেলিটকের মাধ্যমে প্রতি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি দিয়ে এই আবেদন সম্পন্ন করা যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়ার প্রথম মাজারে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শ্রদ্ধা

নম্বরের উদারতায় লাগাম

এসএসসিতে পাসের হার ৬২.২৫%, মেধার রাজত্বে ছাত্রীরাই সেরা

আপডেট সময় : ০৮:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদন :

‎পরীক্ষার খাতায় কৃত্রিম নম্বর বাড়িয়ে পাসের অবাস্তব উৎসব করার দিন এবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো। সম্পূর্ণ নতুন ও কঠোর ‘রিয়েল ইভালুয়েশন’ বা প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন পদ্ধতির প্রথম ধাক্কায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় পতন ঘটেছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের গড় হার দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশ। তবে পাসের সূচক নিম্নমুখী হলেও এবারের ফলাফলের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছে নারী শিক্ষার্থীরা, যারা সংখ্যা এবং মেধা উভয় দিক থেকেই ছেলেদের স্পষ্ট ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে।

‎আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশের ঘোষণা দেন শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

‎ফলাফলের এই নিম্নমুখী হার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের করা তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও আপসহীন বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন: “ফলাফল খারাপ হয়েছে—এই তত্ত্বে আমি বিশ্বাসী নই। বরং যা হয়েছে তা বাস্তবসম্মত এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আসল চিত্র। আপনারা মুক্তকণ্ঠে প্রাণ খুলে গান গাইতে পারেন, কিন্তু পরীক্ষার খাতায় শিক্ষকেরা মুক্তহস্তে কিংবা বানিয়ে বানিয়ে নম্বর দিতে পারেন না। আমরা গুণগত শিক্ষার দিকে হাঁটছি। কৃত্রিমভাবে পাসের হার বাড়িয়ে মেধার অপচয় করার দিন শেষ। শিক্ষার্থীদের এখন থেকে মুখস্থ বিদ্যা বাদ দিয়ে প্রকৃত মেধার পরিচয় দিতে হবে।”

‎এবারের গড় পাসের হারে শীর্ষে থাকা ঢাকা বোর্ডের বড় বড় শহরের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের রাজত্ব ধরে রেখেছে। রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারও শতভাগ শিক্ষার্থী পাসের গৌরব অর্জন করেছে।

‎রাজশাহী বোর্ড (পাসের হার ৬৩.৬৭%): গত সাত বছরের মধ্যে এটিই রাজশাহীর সর্বনিম্ন পাসের রেকর্ড। গণিত ও ইংরেজিতে মফস্বলের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক মার খেলেও ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল এবং সরকারি প্রমথনাথ (পিএন) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে।

‎চট্টগ্রাম বোর্ড (পাসের হার ৫৯.৪৮%): বন্দরনগরীর এই বোর্ডে পাসের হার প্রায় এক ধাক্কায় অনেক কমে গেছে। তবে এই বিপর্যয়ের মধ্যেও চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ও ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শতভাগ পাস ও সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পাওয়ার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

‎সিলেট বোর্ড (পাসের হার ৫৮.৩৩%): ইংরেজি ও গণিতের কঠিন প্রশ্নে মফস্বলের বিদ্যালয়গুলো ধুঁকলেও সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও ব্লু বার্ড হাই স্কুল বরাবরের মতোই চমৎকার জিপিএ-৫ পেয়ে বোর্ডের মুখ রক্ষা করেছে।


‎চলতি বছরের ফলাফলের অভ্যন্তরীণ রসায়ন বলছে, ছাত্ররা এবার ছাত্রীদের কাছে রীতিমতো পরাস্ত হয়েছে। ছেলেদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। ছাত্রীদের পাসের হার যেখানে ৬৬.৬৮ শতাংশ, সেখানে ছাত্রদের পাসের হার মাত্র ৫৭.৮৬ শতাংশ।

‎মোট ১,১৬,৬৭৬ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৩,৮৯৬ জন ছাত্রী এবং ৫২,৭৮০ জন ছাত্র। অর্থাৎ মেধা তালিকার শীর্ষে ছাত্রদের চেয়ে ১১,৪০১ জন বেশি ছাত্রী অবস্থান করছে।


‎ফলাফলে অসন্তুষ্ট বা সংক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা আগামীকাল ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবে। শিক্ষা বোর্ড নিয়ন্ত্রিত অনলাইন পোর্টাল ও টেলিটকের মাধ্যমে প্রতি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা ফি দিয়ে এই আবেদন সম্পন্ন করা যাবে।