রাসেল চৌধুরী
রাজনীতি মানেই কি শুধু ক্ষমতার দাপট, সভা-সমাবেশ আর গৎবাঁধা প্রতিশ্রুতি? এই চেনা সমীকরণ বদলে দিয়ে মানবসেবার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি প্রমাণ করেছেন, সদিচ্ছা থাকলে জনপ্রতিনিধির পদটিকে আর্তমানবতার সেবায় এক পরম আশ্রয়ে পরিণত করা সম্ভব। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাঁর নির্বাচনী এলাকায় চিকিৎসা সেবায় যে বিপুল মানবিক পরিবর্তন এসেছে, তা দেশজুড়ে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এলাকার সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, দিন কিংবা রাত—সময়টা তাঁর কাছে মুখ্য নয়। নির্বাচনী এলাকার কোথাও কোনো অসহায় মানুষের গুরুতর অসুস্থতার খবর পেলেই সাঈদ আল নোমান নিজের সবটুকু সামর্থ্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। গভীর রাতেও যদি কোনো মুমূর্ষু রোগীর খবর আসে, তিনি ঘরে স্থির থাকতে পারেন না। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিজে ছুটে যান অথবা তাঁর বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে দেন। শুধু সান্ত্বনা দেওয়া নয়, গভীর রাতেই উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং সম্পূর্ণ ব্যয়ভার নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া তাঁর একটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এমপি হওয়ার পর থেকে তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল ও প্রচেষ্টায় সবচেয়ে বেশি আর্থিক ও লজিস্টিক মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এই চিকিৎসাক্ষেত্রেই।
সাঈদ আল নোমানের মানবিকতার পরিধি কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। হাসপাতালে যখন তিনি নিজের দলের কোনো অসুস্থ নেতাকর্মীকে দেখতে যান, তখন তাঁর দৃষ্টি শুধু নিজ দলের লোকজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। নেতাকর্মীদের কেবিনের বাইরে এসে তিনি হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে অন্য সাধারণ রোগীদেরও খোঁজখবর নেন। চিকিৎসার অভাবে অসহায় কোনো রোগী কষ্ট পাচ্ছে জানতে পারলে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিজেই সেই সাধারণ মানুষের যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ করেন। হাসপাতালে গিয়ে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই বিরল মানসিকতা স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে তাঁকে এক অনন্য আসনে বসিয়েছে।
এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের অসুস্থতার কথা শুনলে তিনি সবকিছু দিয়ে পাশে দাঁড়ান। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার কোনো কর্মী কিংবা সমাজের অবহেলিত কোনো সাধারণ মানুষ যখনই কোনো কঠিন রোগে আক্রান্ত হন, সাঈদ আল নোমান তাঁর চিকিৎসার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অভিভাবকের মতো দায়িত্ব পালন করেন।
সাঈদ আল নোমান কেবল মাঠপর্যায়েই ছুটে চলছেন না, দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য অধিকার নিয়ে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষের পক্ষে বেসরকারি হাসপাতালের আকাশচুম্বী ব্যয় বহন করে চিকিৎসা নেওয়া অসম্ভব। তাই সরকারি হাসপাতালগুলোর আধুনিকায়ন এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিখরচায় মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
চট্টগ্রামের পাহাড়তলী, খুলশী ও হালিশহর অঞ্চলের বিপুল জনগোষ্ঠীর তুলনায় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। এই সংকট দূর করতে তিনি ওই অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন। একই সাথে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জেনারেল হাসপাতালকে একটি পূর্ণাঙ্গ, আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ মেডিকেল কলেজে রূপান্তরের জন্য তাঁর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
রাজনীতিকে ক্ষমতার হাতিয়ার না বানিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন সাঈদ আল নোমান। চিকিৎসা না পেয়ে কোনো দরিদ্র মানুষ যেন ঝরে না পড়ে—এই নীতি বুকে ধারণ করে তাঁর নিরলস পথচলা স্থানীয় মানুষের মনে এক নতুন আশার আলো জ্বেলেছে। সাঈদ আল নোমানের এই মানবিক মডেল যদি দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে দেশের স্বাস্থ্য খাতের খোলনলচে বদলে ফেলা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।
রাজনীতি যখন জীবন বাঁচানোর ব্রত: সাঈদ আল নোমানের চিকিৎসা সহায়তায় সিক্ত সাধারণ মানুষ
জনপ্রিয় সংবাদ











