ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনাইমুড়ীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ঘর ভস্মীভূত

  • আপডেট সময় : ০৭:১৮:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • 8

নোয়াখালী সংবাদদাতা :

‎রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল আগুন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লেলিহান শিখা গ্রাস করে নিল পুরো একটি বসতঘর। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি আরিফ হোসেনের বাড়িতে এভাবেই এক বিভীষিকাময় রাতের ঘটনা ঘটে গেল। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে পৌরসভার ভানুয়াই গ্রামের নাদু কেরানীর বাড়িতে ঘটা এই অগ্নিকাণ্ডে আরিফের পৈতৃক ভিটার টিনশেড ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

‎স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় বাড়িটি ছিল জনমানবহীন। আরিফ হোসেনের বৃদ্ধ বাবা মো. শাহজাহান, মা আমেনা বেগম এবং ছোট ভাই পাশের বাড়িতে এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। ঠিক এই সুযোগটিই কাজে লাগায় দুর্বৃত্তরা। আগুনের তীব্রতায় ঘরের ভেতরে থাকা ফ্রিজ, টিভি, খাট, আলমারি থেকে শুরু করে নগদ টাকা—সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে কয়লায় পরিণত হয়।

‎আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু টিনের ঘর হওয়ায় আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।

‎সর্বস্ব হারিয়ে আরিফের পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে। আরিফের বাবা মো. শাহজাহান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা বাড়িতে ছিলাম না। খবর পেয়ে এসে দেখি আমার সারা জীবনের অর্জন চোখের সামনে ছাই হয়ে গেছে। রাজনীতি আমার ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে, এখন আমার মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও কেড়ে নিল।”

‎অন্যদিকে, আত্মগোপনে থাকা ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হোসেন মুঠোফোনে অভিযোগ করেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি দলের পক্ষে বিভিন্ন পোস্ট করি, এটাই আমার অপরাধ। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে আমার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।”


‎আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর সোনাইমুড়ী ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার শাহাদাত হোসেন বলেন, “খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আমরা কাজ করছি।”

‎ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যায়। সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‎আপাতত ভস্মীভূত ভিটায় দাঁড়িয়ে বিচার চাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই আরিফের পরিবারের। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সময়ে এমন সহিংসতা এলাকায় নতুন করে আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ জিয়ার প্রথম মাজারে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির শ্রদ্ধা

সোনাইমুড়ীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ঘর ভস্মীভূত

আপডেট সময় : ০৭:১৮:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

নোয়াখালী সংবাদদাতা :

‎রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল আগুন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লেলিহান শিখা গ্রাস করে নিল পুরো একটি বসতঘর। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি আরিফ হোসেনের বাড়িতে এভাবেই এক বিভীষিকাময় রাতের ঘটনা ঘটে গেল। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে পৌরসভার ভানুয়াই গ্রামের নাদু কেরানীর বাড়িতে ঘটা এই অগ্নিকাণ্ডে আরিফের পৈতৃক ভিটার টিনশেড ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

‎স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সময় বাড়িটি ছিল জনমানবহীন। আরিফ হোসেনের বৃদ্ধ বাবা মো. শাহজাহান, মা আমেনা বেগম এবং ছোট ভাই পাশের বাড়িতে এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। ঠিক এই সুযোগটিই কাজে লাগায় দুর্বৃত্তরা। আগুনের তীব্রতায় ঘরের ভেতরে থাকা ফ্রিজ, টিভি, খাট, আলমারি থেকে শুরু করে নগদ টাকা—সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে কয়লায় পরিণত হয়।

‎আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু টিনের ঘর হওয়ায় আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।

‎সর্বস্ব হারিয়ে আরিফের পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে। আরিফের বাবা মো. শাহজাহান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা বাড়িতে ছিলাম না। খবর পেয়ে এসে দেখি আমার সারা জীবনের অর্জন চোখের সামনে ছাই হয়ে গেছে। রাজনীতি আমার ছেলেকে কেড়ে নিয়েছে, এখন আমার মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও কেড়ে নিল।”

‎অন্যদিকে, আত্মগোপনে থাকা ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হোসেন মুঠোফোনে অভিযোগ করেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি দলের পক্ষে বিভিন্ন পোস্ট করি, এটাই আমার অপরাধ। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে আমার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।”


‎আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর সোনাইমুড়ী ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার শাহাদাত হোসেন বলেন, “খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আমরা কাজ করছি।”

‎ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সোনাইমুড়ী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যায়। সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‎আপাতত ভস্মীভূত ভিটায় দাঁড়িয়ে বিচার চাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই আরিফের পরিবারের। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সময়ে এমন সহিংসতা এলাকায় নতুন করে আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।