মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের রহিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃআলমাস উদ্দিনের (৪২) বিরুদ্ধে বিবাহিত এক নারীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী একই ইউনিয়নের সাহেলী গ্রামের সুনাই উদ্দিন আহমেদের মেয়ে মোছা. সুমি আক্তার (২৫)। তিনি অভিযোগ করেন, পারিবারিক সূত্রে আলমাস উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার বাড়ি ও শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
সুমি আক্তারের দাবি, বিয়ের মাধ্যমে সুখের সংসার গড়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার নেওয়া হয়েছে। তার অভিযোগ, ওই সম্পর্কের কারণে তার স্বামী-সংসারও ভেঙে গেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চাইলে একপর্যায়ে সালিশ বসে। তবে সেখানে তার বক্তব্য যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি এবং কথা বলতে গেলে তাকে ধমক দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, সালিশে একপক্ষীয়ভাবে বিবাদী পক্ষের অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় সুমি আক্তারের পক্ষ থেকে গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শিবালয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এসআই খোরশেদ আলম দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে আলমাস উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তার পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দেন। পরে আলমাস উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।
আলমাস উদ্দিন বলেন, তিনি বিভিন্ন মানুষকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেন এবং সুমি আক্তারকেও টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। তার দাবি, এনজিওর মাধ্যমে সুমি আক্তারকে টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং সেই টাকা ফেরত চাইলে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, আলমাস উদ্দিনের সঙ্গে সুমি আক্তারের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও তার বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াতের বিষয়টি স্থানীয় অনেকেই জানেন।
এ বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে অবগত করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগটি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে এ ধরনের ঘটনা সমাজে পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
হারুন রশিদ শেখ স্টাফ রিপোর্টার দৈনিক বাংলার সংবাদ 

















