কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে পূর্ববিরোধের জেরে মো. মতিয়ার রহমান নামে এক মুরগির ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা, মারধর ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মতিয়ারের স্ত্রী মোছা. দুলালী বেগম নাগেশ্বরী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এতে মো. হাফিজুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা ৮-৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মতিয়ার রহমান নাগেশ্বরী কলেজ মোড় এলাকায় মুরগির ব্যবসা করেন। অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পরিবারের পূর্ববিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে। এর জেরে দীর্ঘদিন ধরে মতিয়ার রহমানকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে মুরগির ব্যবসার টাকা কালেকশনের জন্য নাগেশ্বরী থানাধীন পুরাতন পোস্ট অফিসের সামনে গেলে কয়েকজনের সঙ্গে মতিয়ারের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাফিজুর রহমানের নির্দেশে অজ্ঞাতনামা ৮-৯ জন লাঠি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা মতিয়ার রহমানকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। পরে মুরগির ব্যবসায়ী আনোয়ার মিয়ার দোকান থেকে লোহার শীল এনে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার মাথা, পিঠ, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
এরপর আহত মতিয়ার মাটিতে পড়ে গেলে তার প্যান্টের পকেট থেকে মুরগির ব্যবসার কালেকশনের নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মতিয়ার রহমানকে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক প্রধান বলেন, “মামলার এজাহার হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এজাহারে করা অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে আসামিদের দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
মোঃ রেজাউল ইসলাম 

















