চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানার বিশেষ অভিযানে অপহরণ ও ডাকাতি মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগীর লুণ্ঠিত ইয়ামাহা আর১৫ আর২এম মোটরসাইকেলসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বায়েজিদ লিংক রোড, পাহাড়তলী থানার বিটাক বাজার ও ফইল্লাতলি বাজার এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন অনিক দাশ (২৭), ওয়াহিদ মোহাম্মদ জেবল হোসেন অনিক ওয়াহিদ (৩৯), মহিউদ্দিন সেলিম (৫২) ও মোহাম্মদ ওয়াহেদ নাছির ডায়মন্ড (৩৮)।
পুলিশের তথ্যমতে, গত ১৬ অক্টোবর রাতে মারুফুর রহমান অপু (২২) তাঁর তিন বন্ধুর সঙ্গে তিনটি মোটরসাইকেলে কক্সবাজার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরদিন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে চট্টগ্রামের খুলশী থানাধীন জাকির হোসেন রোডে ফয়েজ লেক চক্ষু হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে একটি মেরুন রঙের প্রাইভেট কার ও দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে কয়েকজন তাঁদের পথরোধ করেন।
এ সময় দুর্বৃত্তরা অপুর মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেয়। পরে তাঁকে মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক প্রাইভেট কারে তুলে নেয়। তাঁদের একজন অপুর মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। অন্যরা তাঁকে গাড়িতে করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর ব্যবহৃত প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ভিভো মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মোটরসাইকেল বিক্রির একটি স্টোরি দেখে অপু যোগাযোগ করেন। মোটরসাইকেলটির দাম ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলে তিনি পাঁচ হাজার টাকা অগ্রিম দেন। এরপর তাঁকে মোটরসাইকেলটি বুঝে নিতে বায়েজিদ লিংক রোডের মুখে পুলিশ বক্সের সামনে যেতে বলা হয়।
এ ঘটনায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। প্রথমে বায়েজিদ লিংক রোড এলাকা থেকে অনিক দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলীর বিটাক বাজার এলাকা থেকে ওয়াহিদ মোহাম্মদ জেবল হোসেন অনিক ওয়াহিদ ও মহিউদ্দিন সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়তলীর ফইল্লাতলি বাজারে সিদ্দিক কমিশনারের বাড়ির রোডের কুদ্দুছের গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ ওয়াহেদ নাছির ডায়মন্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে অপুর লুণ্ঠিত ইয়ামাহা আর১৫ আর২এম মোটরসাইকেল এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজন ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে খুলশী থানায় ২০ অক্টোবর মামলা করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ২৯। এতে দণ্ডবিধির ৩৬৫, ৩৯৫, ৩৯৭ ও ৪১২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
পারভেজ বাঙালী,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: 


















