চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানে চোরাই ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনের আইএমইআই (IMEI) নম্বর পরিবর্তনকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার হেফাজত থেকে আটটি মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও আইএমইআই পরিবর্তনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টা ২০ মিনিটে নগরের কোতোয়ালী থানাধীন চৈতন্য গলি কাঁচাবাজার এলাকার বিসমিল্লাহ বিল্ডিংয়ের ষষ্ঠ তলার ৬ নম্বর কক্ষে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. আব্দুল মান্নান ওরফে আসিফ (২৪)। তিনি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার চিলবা বাজার এলাকার বদিউল আলম ও হোসনে আরা বেগমের ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানাধীন পুরাতন চান্দগাঁওয়ের পাঠানিয়া গোদা এলাকায় বসবাস করতেন।
কোতোয়ালী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহেদুল কবিরের নেতৃত্বে এসআই নাঈমুর রহমান ও সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, বিসমিল্লাহ বিল্ডিংয়ের ষষ্ঠ তলার একটি কক্ষে বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা হচ্ছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তি তার হেফাজতে বিভিন্ন চোরাই ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনের আইএমইআই পরিবর্তনের জন্য রাখা হয়েছে বলে স্বীকার করেন।
অভিযানে উদ্ধার করা আটটি মোবাইল ফোনের মধ্যে রয়েছে রিয়েলমি 7i, ইনফিনিক্স স্মার্ট 7, ভিভো V27 5G, আইটেল সুপার 26 আল্ট্রা, আইটেল, হুয়াওয়ে নোভা 12s, শাওমি রেডমি নোট 7 এবং ইনফিনিক্স হট 60 প্রো। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা কয়েকটি ফোনের পেছনের অংশ খোলা ছিল এবং সেগুলো বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। কয়েকটি ফোন অচল ছিল এবং সেগুলোর আইএমইআই নম্বর দৃশ্যমান ছিল না। একটি ফোনের আইএমইআই নম্বর মুছে ফেলা অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে একটি F64 eMMC ও UFC অ্যাডাপ্টার, একটি এলজি মনিটর, একটি পিসি, একটি মাল্টিপ্লাগ, একটি ল্যাম্প লাইট, একটি কিবোর্ড, একটি মাউস, একটি রাউটার এবং পিসি ও মনিটর সংযোগের বিভিন্ন ক্যাবল।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি ও পলাতক অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ৫৭ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৪১১ ধারা এবং সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২১(২), ২২(২) ও ২৭ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পারভেজ বাঙালী,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: 


















