গাইবান্ধায় প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ২৫০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালের নির্ধারিত ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে রোগীরা অবস্থান নিচ্ছেন অন্য ওয়ার্ড, মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়িতে। এদিকে ডেঙ্গু পরীক্ষার মেশিন বিকল থাকা এবং হাসপাতালে পর্যাপ্ত ঔষধের সংকটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ডেঙ্গু রোগীর উপচে পড়া ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে রোগীরা অবস্থান নিচ্ছেন হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা, সিঁড়ি ও অন্য ওয়ার্ডে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে সাধারণ রোগী ও ডেঙ্গু রোগীদের একই স্থানে রাখার বিষয়টি। এতে করে অন্য রোগীদের মাঝেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়। হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার নিজস্ব মেশিন না থাকায় অতিরিক্ত টাকা খরচ করে যেতে হচ্ছে বাহিরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। পাশাপাশি হাসপাতাল থেকে মিলছে না পর্যাপ্ত ঔষধও, বেশিরভাগ ঔষধ কিনতে হচ্ছে বাহিরের ফার্মেসি থেকে।
দায়িত্বে থাকা নার্সদের বক্তব্য, ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সেবা এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় সচেতনতামূলক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
এদিকে অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও চিকিৎসা সেবার বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. মোঃ শহিদুল্লাহ জানান, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি রোগী ৪২৬ জন, এজন্যই বাকি রোগীদের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে আর বিভিন্ন পরিক্ষার মেশিন ও জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে, তবে ঔষধ এর সাপ্লাই অনুযায়ী সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩১ জন। আর চলতি অক্টোবর মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১৪১ জন। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে মোট ৩৯১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ঔষধের সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
স্টাফ রিপোর্টার : সাকিবুল হাসান সৌরভ 



















