★ বিদ্যুৎহীন ৮ হাজার গ্রাহক
★ বিস্ফোরণ-ভূমিধসের শঙ্কা
কক্সবাজারের উখিয়ায় মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ইনানীর ছোট ব্রিজ এলাকায় এক বসতভিটায় গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে ঘটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। মাটির গভীর থেকে হঠাৎ গ্যাস বের হয়ে স্বয়ংক্রিয় বিস্ফোরণের মাধ্যমে যে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, তা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো জ্বলছে। মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় শুরু হওয়া এই আগুন বুধবার এই রিপোর্ট লেখার রাত ৮ টা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনতা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। তবে মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকে আগুনের তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিচারে অগ্নিনির্বাপণ তৎপরতা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি মূল্যায়নে বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেছে। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) এস এম নাফিফুন আরহাম। পরিদর্শন করে তারা জানান, জোর করে আগুন নেভাতে গেলে মাটির নিচে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে কিংবা গ্যাস অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে আরও বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে। তাই মাটির নিচের গ্যাসের মজুত প্রাকৃতিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই আগুন জ্বলতে দেওয়াই একমাত্র নিরাপদ উপায়।
বর্তমানে বাপেক্স, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশে ২০০ থেকে ২৫০ বর্গমিটার এলাকা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং এলাকাটিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জনবসতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে আগুন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসা উৎসুক মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এসআরবিসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
বাতাসের তীব্রতা ও বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সংকেত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, নলকূপের মুখটি ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে এবং আগুন আরও অন্তত চার থেকে পাঁচ দিন জ্বলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ড থেকে বিদ্যুৎ লাইনে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ইনানীর মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ৪৫টিরও বেশি রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন, যদিও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ চালুর চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ থেকে উখিয়ার ইনানী ও কোটবাজারে যাতায়াতের সড়কে যানবাহন চলাচলও সীমিত রাখা হয়েছে।
জমির মালিক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে তাঁর বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। তবে নলকূপ বসানোর পরও পানি পাওয়া যায়নি। পরে নলকূপ স্থাপনের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান। মঙ্গলবার সকালে নলকূপের ওই স্থান থেকে হঠাৎ গ্যাস বের হতে দেখা যায় এবং একপর্যায়ে আগুন জ্বলে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, আগুন জ্বলে ওঠার পরপরই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
বুধবার উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম প্রকৌশলী কাইজার নুর জানান, গ্যাসের আগুনের কারণে মঙ্গলবার ভোর ৬টা ১৫ মিনিট থেকে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিকল্প সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দলের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের আশপাশের ২০০ মিটার এলাকা বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হবে।
কনক বড়ুয়া, উখিয়া: 


















