ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুগঞ্জ সার কারখানা ১৯ মাস ধরে বন্ধ, দৈনিক উৎপাদন ব্যাহত ৫ কোটি টাকার সার

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাসসংকটের কারণে প্রায় ১৯ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ইউরিয়া সার উৎপাদন। উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কারখানাটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে একদিকে বাড়ছে আমদানিনির্ভরতা, অন্যদিকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৯ মাসে কারখানাটিতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সার উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত পড়ে থাকায় সেগুলোর কার্যক্ষমতা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে চলতি বছরের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে কারখানাটিতে উৎপাদন চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আশুগঞ্জ সার কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের সার কারখানাগুলো সচল রাখতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। দেশীয় কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো গেলে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ইউরিয়া সার রপ্তানিও সম্ভব হবে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান আরও জানান, দেশের সব সার কারখানা সচল করার মাধ্যমে ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হওয়া প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ জন্য কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও নেই গ্যাস ১৯৮৩ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা আশুগঞ্জ সার কারখানা দীর্ঘদিন ধরে দেশের কৃষি খাতে ইউরিয়া সার সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

একসময় কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় এক হাজার ৬০০ টন। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

কিন্তু গ্যাসসংকটের কারণে গত বছরের ১ মার্চ থেকে কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে বিসিআইসির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কয়েক বছর ধরেই গ্যাসসংকটের কারণে বছরের দীর্ঘ সময় আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিন যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থাকায় সেগুলো সচল রাখা এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু করার বিষয়টিও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উৎপাদন শুরুর উদ্যোগ নিলেই বাধা কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস সরবরাহ করা হলে উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ বিরতির কারণে যন্ত্রপাতিতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। সেগুলো মেরামত করে উৎপাদন শুরুর পর্যায়ে আবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বারবার উৎপাদন চালুর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার বলেন, কারখানাটিতে এখনো সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করা সম্ভব।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের কৃষি খাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই কারখানাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু গ্যাস সরবরাহ করলেই হবে না, উৎপাদন অব্যাহত রাখার মতো পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। বারবার উৎপাদন বন্ধ হলে যন্ত্রপাতি সচল রাখা ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন—দুটিই কঠিন হয়ে পড়বে।

আশুগঞ্জ সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, গ্যাসসংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানাটি পুনরায় চালুর বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী। গত জুন মাসেও উৎপাদন শুরুর প্রত্যাশা ছিল। এখনো তাঁরা সেই আশা ছাড়েননি।
তিনি বলেন, দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বাড়লে স্বল্প সময়ের মধ্যে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া তুলনামূলক কম গ্যাস ব্যবহার করে কীভাবে উৎপাদন চালু রাখা যায়, সে বিষয়ে বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আলোচনা করছে।
তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া আরও বলেন, দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন সার কারখানা স্থাপনের বিষয়েও বিসিআইসিতে আলোচনা চলছে।

গ্যাস সরবরাহের নির্দেশনার অপেক্ষায় বিতরণ বিভাগ
আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডও এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে।

কারখানাটিতে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। এখানকার উৎপাদিত প্রিলড ইউরিয়া সার আশপাশের সাতটি জেলায় সরবরাহ করা হয়। ফলে কারখানাটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আঞ্চলিক সার সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে পড়ছে।

দেশের সার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা থাকলেও আশুগঞ্জের মতো সক্ষম একটি সার কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে উঠছে।

এ অবস্থায় কবে নাগাদ কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে কারখানাটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উৎপাদন চালুর কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারা পদ্মা নদীতে অভিযানে প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী ১০৬টি জাল জব্দ ও ধ্বংস

আশুগঞ্জ সার কারখানা ১৯ মাস ধরে বন্ধ, দৈনিক উৎপাদন ব্যাহত ৫ কোটি টাকার সার

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাসসংকটের কারণে প্রায় ১৯ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ইউরিয়া সার উৎপাদন। উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কারখানাটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে একদিকে বাড়ছে আমদানিনির্ভরতা, অন্যদিকে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৯ মাসে কারখানাটিতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সার উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত পড়ে থাকায় সেগুলোর কার্যক্ষমতা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে চলতি বছরের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে কারখানাটিতে উৎপাদন চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আশুগঞ্জ সার কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের সার কারখানাগুলো সচল রাখতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। দেশীয় কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো গেলে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ইউরিয়া সার রপ্তানিও সম্ভব হবে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান আরও জানান, দেশের সব সার কারখানা সচল করার মাধ্যমে ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হওয়া প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ জন্য কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও নেই গ্যাস ১৯৮৩ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা আশুগঞ্জ সার কারখানা দীর্ঘদিন ধরে দেশের কৃষি খাতে ইউরিয়া সার সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

একসময় কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় এক হাজার ৬০০ টন। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

কিন্তু গ্যাসসংকটের কারণে গত বছরের ১ মার্চ থেকে কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে বিসিআইসির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কয়েক বছর ধরেই গ্যাসসংকটের কারণে বছরের দীর্ঘ সময় আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে উৎপাদনের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘদিন যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত থাকায় সেগুলো সচল রাখা এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু করার বিষয়টিও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উৎপাদন শুরুর উদ্যোগ নিলেই বাধা কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস সরবরাহ করা হলে উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ বিরতির কারণে যন্ত্রপাতিতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। সেগুলো মেরামত করে উৎপাদন শুরুর পর্যায়ে আবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বারবার উৎপাদন চালুর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার বলেন, কারখানাটিতে এখনো সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করা সম্ভব।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের কৃষি খাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই কারখানাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু গ্যাস সরবরাহ করলেই হবে না, উৎপাদন অব্যাহত রাখার মতো পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। বারবার উৎপাদন বন্ধ হলে যন্ত্রপাতি সচল রাখা ও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন—দুটিই কঠিন হয়ে পড়বে।

আশুগঞ্জ সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, গ্যাসসংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানাটি পুনরায় চালুর বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী। গত জুন মাসেও উৎপাদন শুরুর প্রত্যাশা ছিল। এখনো তাঁরা সেই আশা ছাড়েননি।
তিনি বলেন, দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বাড়লে স্বল্প সময়ের মধ্যে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া তুলনামূলক কম গ্যাস ব্যবহার করে কীভাবে উৎপাদন চালু রাখা যায়, সে বিষয়ে বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আলোচনা করছে।
তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া আরও বলেন, দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন সার কারখানা স্থাপনের বিষয়েও বিসিআইসিতে আলোচনা চলছে।

গ্যাস সরবরাহের নির্দেশনার অপেক্ষায় বিতরণ বিভাগ
আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডও এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে।

কারখানাটিতে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। এখানকার উৎপাদিত প্রিলড ইউরিয়া সার আশপাশের সাতটি জেলায় সরবরাহ করা হয়। ফলে কারখানাটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আঞ্চলিক সার সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে পড়ছে।

দেশের সার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা থাকলেও আশুগঞ্জের মতো সক্ষম একটি সার কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে উঠছে।

এ অবস্থায় কবে নাগাদ কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে কারখানাটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উৎপাদন চালুর কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।