ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষি গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবি অধ্যাপক

 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস। ২০২১ সালে আবেদন করার পাঁচ বছর দুই মাস পর এ অনুমোদন পেলেন তিনি।

গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) পেটেন্টটি অনুমোদন করা হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য ২০২১ সালে আবেদন করেছিলেন অধ্যাপক জাভেদ। দীর্ঘ সময় আবেদনটি অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল।

অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খান বলেন, পেটেন্ট অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ জন্য তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

জাভেদ হোসেন খানের ভাষ্য, ন্যানো ইউরিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার দক্ষতা বাড়ানো, সারের অপচয় কমানো, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং ফসলের ফলন বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, তা কমাতেও প্রযুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সক্ষমতার পরিচয় বহন করে। তাঁর মতে, প্রচলিত ইউরিয়া সারের তুলনায় সাশ্রয়ী মূল্যে সমপরিমাণ পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমতে পারে। একই সঙ্গে ইউরিয়া আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অধ্যাপক জাভেদ ২০১৩ সাল থেকে যবিপ্রবিতে নিজস্ব গবেষণাগার পরিচালনা করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (ন্যাম) ল্যাবে ন্যানোটেকনোলজি ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণা হয়। ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো নির্বাচিত হন।

পেটেন্ট অনুমোদনের ফলে উদ্ভাবনটির আরও উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কৃষিতে এর কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় ও পরিবেশগত প্রভাব নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং মাঠপর্যায়ে যাচাই প্রয়োজন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের ৫৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

কৃষি গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবি অধ্যাপক

আপডেট সময় : ১২:১৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস। ২০২১ সালে আবেদন করার পাঁচ বছর দুই মাস পর এ অনুমোদন পেলেন তিনি।

গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) পেটেন্টটি অনুমোদন করা হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য ২০২১ সালে আবেদন করেছিলেন অধ্যাপক জাভেদ। দীর্ঘ সময় আবেদনটি অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল।

অধ্যাপক জাভেদ হোসেন খান বলেন, পেটেন্ট অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ জন্য তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

জাভেদ হোসেন খানের ভাষ্য, ন্যানো ইউরিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার দক্ষতা বাড়ানো, সারের অপচয় কমানো, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং ফসলের ফলন বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, তা কমাতেও প্রযুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সক্ষমতার পরিচয় বহন করে। তাঁর মতে, প্রচলিত ইউরিয়া সারের তুলনায় সাশ্রয়ী মূল্যে সমপরিমাণ পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমতে পারে। একই সঙ্গে ইউরিয়া আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অধ্যাপক জাভেদ ২০১৩ সাল থেকে যবিপ্রবিতে নিজস্ব গবেষণাগার পরিচালনা করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (ন্যাম) ল্যাবে ন্যানোটেকনোলজি ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণা হয়। ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো নির্বাচিত হন।

পেটেন্ট অনুমোদনের ফলে উদ্ভাবনটির আরও উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কৃষিতে এর কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় ও পরিবেশগত প্রভাব নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং মাঠপর্যায়ে যাচাই প্রয়োজন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।