গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১০ নম্বর ঘাগোয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সার ডিলার নিয়োগ এবং গোডাউন অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষে ভুক্তভোগী মো. জাহাঙ্গীর আলম। এর আগে অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত আবেদনও দাখিল করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘাগোয়া ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সাকোয়াত হোসেনের ডিলারশিপ ও গোডাউন অনুমোদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নীতিবহির্ভূতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে এমন একটি গোডাউনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে যার আয়তন মাত্র ৪৫২ বর্গফুট। শুধু তাই নয়, গোডাউনটির মেঝেতে বড় ধরনের ফাটল রয়েছে এবং সেটি দেবে গেছে, যা রাসায়নিক সার সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সম্পূর্ণ অনুপযোগী। এছাড়া ডিলারশিপের জন্য দাখিলকৃত ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর রিটার্নের সত্যতা নিয়েও জনমনে চরম প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, গাইবান্ধা সদর কার্যালয়ের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আজাজমির হোসেন অনৈতিক সুবিধা ও অর্থের বিনিময়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ ও নিয়মবহির্ভূত গোডাউনটিকে ‘উপযুক্ত’ হিসেবে বিবেচনা করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ে সঠিক তদন্ত ছাড়াই একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রতিবেদনের কারণে প্রকৃত ও যোগ্য ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্ট গোডাউনটি সরেজমিনে পুনঃপরিদর্শন, দাখিলকৃত নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই এবং ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দ্রুত ওই ডিলারের লাইসেন্স বাতিলসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। উল্লেখ্য, এই আবেদনের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
মোঃইসমাইল সিরাজী, গাইবান্ধা প্রতিনিধি: 


















