ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঁশখালীতে ভুয়া SRB পরিচয়ে ব্যবসায়ী অপহরণ, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি; উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

 

টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ব্যবসায়ীকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার, জব্দ প্রাইভেট কার, SRB লেখা কটি, ভুয়া পরিচয়পত্র ও হ্যান্ডকাফ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভুয়া SRB সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা পুলিশ। অপহরণের শিকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকা থেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার, পাঁচটি কালো রঙের SRB লেখা কটি, দুটি ভুয়া SRB পরিচয়পত্র এবং একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ির প্রেমবাজারে ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের হার্ডওয়্যারের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

SRB পরিচয়ে দোকান থেকে তুলে নেওয়া হয় ব্যবসায়ীকে

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন কয়েকজন ব্যক্তি কালো পোশাকের ওপর SRB লেখা কটি, মাথায় কালো ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরে দোকানে প্রবেশ করেন। তাঁরা নিজেদের SRB সদস্য পরিচয় দিয়ে ক্যাশে বসা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানের পরিচয় নিশ্চিত করেন। এ সময় তাঁরা তাঁর যমজ ভাই মো. হোছাইনের ছবি দেখান।

একপর্যায়ে ব্যবসায়ী নিজের পরিচয় দিলে অভিযুক্তরা তাঁর দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরান। পরে তাঁকে টানাহেঁচড়া করে দোকান থেকে বের করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। এরপর বিভিন্ন যানবাহনে স্থানান্তর করে তাঁকে কক্সবাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

অপহরণের পর ১৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও দোকানের ম্যানেজারের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ভিওআইপি নম্বর থেকে কল করা হয়। এ সময় অপহরণকারীরা ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না দিলে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. হোছাইমের এজাহারের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানায় মামলা করা হয়।

পাঁচ দিনের মধ্যে অভিযান, টেকনাফ থেকে উদ্ধার

ঘটনার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের দিকনির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান ও ডিবির ওসি মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও অবস্থান নির্ণয়ে কাজ করে পুলিশের একাধিক দল।

এর ধারাবাহিকতায় ২০ অক্টোবর কক্সবাজার সদর থানার বাস টার্মিনাল, বাংলাবাজার ও কোর্টবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ছয়জন

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—

১. সুমন মুন্সি: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বাসিন্দা; চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য।

২. মিজানুর রহমান: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

৩. জয়নাল উদ্দিন ওরফে জুনু: উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

৪. মো. আব্বাস উদ্দিন: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা।

৫. মো. ছলিম ওরফে সেলিম: রোহিঙ্গা; টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর বাসিন্দা।

৬. দেলোয়ার হোসেন: কক্সবাজার সদর উপজেলার বাসিন্দা।

ভুয়া পরিচয়ে দল গঠনের অভিযোগ

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সি অতীতে উখিয়া এলাকায় SRB-তে কর্মরত থাকার সময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে তিনি চাকরিচ্যুত হন এবং কারাভোগ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাগারে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে পরবর্তী সময়ে তিনি ভুয়া SRB পরিচয়ে একটি দল গড়ে তোলেন। ভুয়া SRB সদস্য পরিচয়ে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আব্বাস উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সুমনকে তথ্য দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ভুয়া SRB পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হতো বলে পুলিশের দাবি।

কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগের মামলার তথ্য

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সুমন মুন্সির বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা রয়েছে। আব্বাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। জয়নাল উদ্দিন ওরফে জুনুর বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিনটি মামলা এবং ছলিম ওরফে সেলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ রয়েছে কি না এবং অপহরণের পেছনে আরও কোনো অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র: চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও মামলাসংশ্লিষ্ট তথ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধারাভাষ্যে নতুন দ্যুতি ছড়াচ্ছেন কুষ্টিয়ার তরিকুল ইসলাম

বাঁশখালীতে ভুয়া SRB পরিচয়ে ব্যবসায়ী অপহরণ, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি; উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

আপডেট সময় : ০২:৪৮:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

 

টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ব্যবসায়ীকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার, জব্দ প্রাইভেট কার, SRB লেখা কটি, ভুয়া পরিচয়পত্র ও হ্যান্ডকাফ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভুয়া SRB সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বাঁশখালী থানা পুলিশ। অপহরণের শিকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকা থেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার, পাঁচটি কালো রঙের SRB লেখা কটি, দুটি ভুয়া SRB পরিচয়পত্র এবং একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ির প্রেমবাজারে ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ নামের হার্ডওয়্যারের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

SRB পরিচয়ে দোকান থেকে তুলে নেওয়া হয় ব্যবসায়ীকে

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন কয়েকজন ব্যক্তি কালো পোশাকের ওপর SRB লেখা কটি, মাথায় কালো ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরে দোকানে প্রবেশ করেন। তাঁরা নিজেদের SRB সদস্য পরিচয় দিয়ে ক্যাশে বসা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানের পরিচয় নিশ্চিত করেন। এ সময় তাঁরা তাঁর যমজ ভাই মো. হোছাইনের ছবি দেখান।

একপর্যায়ে ব্যবসায়ী নিজের পরিচয় দিলে অভিযুক্তরা তাঁর দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরান। পরে তাঁকে টানাহেঁচড়া করে দোকান থেকে বের করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। এরপর বিভিন্ন যানবাহনে স্থানান্তর করে তাঁকে কক্সবাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

অপহরণের পর ১৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও দোকানের ম্যানেজারের মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ভিওআইপি নম্বর থেকে কল করা হয়। এ সময় অপহরণকারীরা ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা না দিলে ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. হোছাইমের এজাহারের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানায় মামলা করা হয়।

পাঁচ দিনের মধ্যে অভিযান, টেকনাফ থেকে উদ্ধার

ঘটনার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের দিকনির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান ও ডিবির ওসি মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও অবস্থান নির্ণয়ে কাজ করে পুলিশের একাধিক দল।

এর ধারাবাহিকতায় ২০ অক্টোবর কক্সবাজার সদর থানার বাস টার্মিনাল, বাংলাবাজার ও কোর্টবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে টেকনাফের লেদা (আলীখালী) রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৫ সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহছান ওরফে হাসানকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ছয়জন

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—

১. সুমন মুন্সি: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বাসিন্দা; চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য।

২. মিজানুর রহমান: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

৩. জয়নাল উদ্দিন ওরফে জুনু: উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

৪. মো. আব্বাস উদ্দিন: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা।

৫. মো. ছলিম ওরফে সেলিম: রোহিঙ্গা; টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬-এর বাসিন্দা।

৬. দেলোয়ার হোসেন: কক্সবাজার সদর উপজেলার বাসিন্দা।

ভুয়া পরিচয়ে দল গঠনের অভিযোগ

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য সুমন মুন্সি অতীতে উখিয়া এলাকায় SRB-তে কর্মরত থাকার সময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে তিনি চাকরিচ্যুত হন এবং কারাভোগ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাগারে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে পরবর্তী সময়ে তিনি ভুয়া SRB পরিচয়ে একটি দল গড়ে তোলেন। ভুয়া SRB সদস্য পরিচয়ে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৩টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আব্বাস উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সুমনকে তথ্য দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ভুয়া SRB পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হতো বলে পুলিশের দাবি।

কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগের মামলার তথ্য

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সুমন মুন্সির বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা রয়েছে। আব্বাস উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। জয়নাল উদ্দিন ওরফে জুনুর বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিনটি মামলা এবং ছলিম ওরফে সেলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ রয়েছে কি না এবং অপহরণের পেছনে আরও কোনো অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র: চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও মামলাসংশ্লিষ্ট তথ্য।