ঢাকা ০৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালাকের তথ্য গোপন করে ৩৩ লাখ টাকা ও মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতে মামলা

 

যশোরের ঝিকরগাছায় তালাকের তথ্য গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর বাসা থেকে প্রায় ৩৩ লাখ টাকার মালামাল, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে কনক আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত নারী অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

আদালতের নালিশি বিবরণী সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কনক আক্তারের বিয়ে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ মার্চ তালাক দেওয়া হলেও বিষয়টি স্বামীর কাছে গোপন রাখা হয়। এরপর দীর্ঘদিন প্রবাসীর বাসায় অবস্থানকালে বাসার চাবি, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র, স্বর্ণালংকার, পোশাক-পরিচ্ছদ, ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ও ভাড়ার টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল এবং অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নালিশি বিবরণীতে আরও বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ভ্যানে করে বাসা থেকে মূল্যবান মালামাল ও নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ২ অক্টোবর বাদী সাইদুল ইসলাম অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলে তিনি তালাকের বিষয়টি জানান এবং ফিরতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় টাকা ও মালামাল ফেরত চাইলে বাদী ও সাক্ষীদের অপমান-অপদস্থ করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রবাসীর ভাই সাইদুল ইসলাম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ঝিকরগাছা আমলি আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬(২) ধারায় মামলা করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগে উল্লেখিত টাকা ও মালামাল উদ্ধারের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮ ধারায় সার্চ ওয়ারেন্ট জারির আবেদন জানিয়ে যশোরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক আরেকটি মামলা করেছেন। মামলা দুটির নম্বর সিআর ৭৪৩/২৬ এবং পি ৮৬৭/২৬।

প্রবাসী হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি যে প্রতারণার শিকার হয়েছি, এমন ঘটনা যেন আর কারও সঙ্গে না ঘটে। আমি ক্ষতিপূরণসহ ন্যায়বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কনক আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ঝিকরগাছা থানায় উভয় পক্ষের বসাবসি হয়েছিল। তিনি মালামাল ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত নন এবং মামলায় উল্লেখ করা ঘটনাগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তালাকের তথ্য গোপন করে ৩৩ লাখ টাকা ও মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতে মামলা

তালাকের তথ্য গোপন করে ৩৩ লাখ টাকা ও মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতে মামলা

আপডেট সময় : ০৯:০৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

 

যশোরের ঝিকরগাছায় তালাকের তথ্য গোপন রেখে প্রবাসী স্বামীর বাসা থেকে প্রায় ৩৩ লাখ টাকার মালামাল, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে কনক আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত নারী অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

আদালতের নালিশি বিবরণী সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কনক আক্তারের বিয়ে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ মার্চ তালাক দেওয়া হলেও বিষয়টি স্বামীর কাছে গোপন রাখা হয়। এরপর দীর্ঘদিন প্রবাসীর বাসায় অবস্থানকালে বাসার চাবি, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র, স্বর্ণালংকার, পোশাক-পরিচ্ছদ, ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ও ভাড়ার টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল এবং অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নালিশি বিবরণীতে আরও বলা হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ভ্যানে করে বাসা থেকে মূল্যবান মালামাল ও নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে ২ অক্টোবর বাদী সাইদুল ইসলাম অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলে তিনি তালাকের বিষয়টি জানান এবং ফিরতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় টাকা ও মালামাল ফেরত চাইলে বাদী ও সাক্ষীদের অপমান-অপদস্থ করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রবাসীর ভাই সাইদুল ইসলাম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ঝিকরগাছা আমলি আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৫০৬(২) ধারায় মামলা করেছেন। পাশাপাশি অভিযোগে উল্লেখিত টাকা ও মালামাল উদ্ধারের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮ ধারায় সার্চ ওয়ারেন্ট জারির আবেদন জানিয়ে যশোরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক আরেকটি মামলা করেছেন। মামলা দুটির নম্বর সিআর ৭৪৩/২৬ এবং পি ৮৬৭/২৬।

প্রবাসী হাবিবুর রহমান বলেন, “আমি যে প্রতারণার শিকার হয়েছি, এমন ঘটনা যেন আর কারও সঙ্গে না ঘটে। আমি ক্ষতিপূরণসহ ন্যায়বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কনক আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ঝিকরগাছা থানায় উভয় পক্ষের বসাবসি হয়েছিল। তিনি মালামাল ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত নন এবং মামলায় উল্লেখ করা ঘটনাগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেন।