বিশেষ প্রতিনিধি :
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত কয়েক মাসে আওয়ামী লীগের প্রথম সারির ও প্রভাবশালী নেতাদের গ্রেফতারের হিড়িক পড়লেও, আড়ালে চলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। জনসমক্ষে ‘জিরো টলারেন্স’ কথা বলা হলেও, পুলিশের একাংশের সাথে কোটি টাকার গোপন আর্থিক লেনদেন ও কৌশলগত সমঝোতার মাধ্যমে অনেক নেতাই কারাগার থেকে বের হয়ে গেছেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সুনির্দিষ্ট এজাহার থাকা সত্ত্বেও আইনি ফাঁকফোকর তৈরি এবং দুর্বল তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভর করে পর্দার আড়ালে অপরাধীদের পার পাওয়ার এক সুরক্ষিত সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
অনুসন্ধানে থানা পুলিশ এবং আদালতের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রভাবশালী নেতাদের আইনি সুবিধা দিতে মূলত তিনটি ধাপে সুনিপুণ কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে।
গুরুতর অপরাধের মামলায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা হিসেবে গ্রেফতার করা হলেও, পরবর্তী সময়ে মামলার ‘চূড়ান্ত প্রতিবেদন’ দেওয়ার সময় মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালী নেতাদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত নেতাদের আদালতে পাঠানোর সময় এমন কিছু আইনি ধারা প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা আসামিপক্ষকে খুব দ্রুত আইনি সুবিধা দিচ্ছে।
রিমান্ড মঞ্জুরের পর মূল পরিকল্পনাকারীদের কাছ থেকে ঘটনার নেপথ্যের তথ্য বা অস্ত্র উদ্ধারের মতো কোনো জোরালো তৎপরতা দেখা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে থানায় তাদের বিশেষ ভিআইপি সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে একটি বিশেষ আইনজীবী সিন্ডিকেট এবং পুলিশের কতিপয় অসাধু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। প্রতিটি বড় নেতার মুক্তির পেছনে ৫০ লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এই অর্থের বিনিময়ে মামলার ডায়েরি এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যেন আদালত আসামিকে জামিন দিতে বাধ্য হন।
মানবাধিকার কর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধীদের এভাবে সুকৌশলে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিলে তা দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে। একদিকে যেমন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। এই গোপন আর্থিক সিন্ডিকেট ও পুলিশের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি রুখতে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের জুডিশিয়াল তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
















