প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। দিন-রাত বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা এবং কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করছেন অনেকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মিরপুর বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুনরায় চলে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন প্রচণ্ড গরমে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকানপাট, ছোট কারখানা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান ও অন্যান্য শীতলীকরণ যন্ত্র চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রচণ্ড গরমে অনেক পরিবারকে অস্বস্তিকর পরিবেশে রাত কাটাতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎনির্ভর পানির পাম্প চালু করতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে মিরপুর বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন দোকান ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে না পারায় ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন। বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন গ্রাহকরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহেদ চৌধুরী বলেন, ‘ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দোকান ও প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এতে ব্যবসায়িকভাবে আমাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ আসার পর আবার অল্প সময়ের মধ্যেই চলে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।’
বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এক গ্রাহক ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘মিরপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবন থেকে দক্ষিণ এলাকায় বিদ্যুৎ যায় না। অথচ মিরপুর বাজারসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় এত পরিমাণ লোডশেডিং—বলার ভাষা নেই।’ এ ধরনের মন্তব্যে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, মিরপুর এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্য কোনো কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হলে গ্রাহকদের আগাম অবহিত করা এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে মিরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা। তাই কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকা কিংবা ঘন ঘন আসা-যাওয়া করলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে জনজীবন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের প্রত্যাশা, মিরপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রচণ্ড গরমে বাহুবলের মিরপুরে ঘন ঘন লোডশেডিং বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ গ্রাহক, ব্যাহত জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য
-
মোঃ সমুজ আলী রানা, বাহুবল (হবিগঞ্জ): - আপডেট সময় : ০৪:০১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 1
জনপ্রিয় সংবাদ

















