নওগাঁর রাণীনগরে দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পারইল বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।পারইল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি তুষার আহম্মদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার বুলেট, ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজেদুর রহমান, স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও প্রশান্ত কুমারসহ অনেকে। মানববন্ধনে বক্তারা জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে পারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের সামনে মোজাম্মেল হক মোজা ওরফে মুঞ্জুর (৭০) দোকানে খাবার কিনতে যায়। এ সময় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিশুটিকে দোকানের ভেতরে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করেন এবং উত্তেজিত জনতা তাঁর দোকানে হামলা চালায়। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়। বক্তাদের দাবি, ওই ঘটনার পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর মোজাম্মেল হকের ছেলে ইউনুস আলী শিশুটির বাবাসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করেন। তাঁরা মামলাটিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন।মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, পারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার বাদী ইউনুস আলী বলেন, তাঁর বাবার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক। শিশুটির বাবার সঙ্গে তাঁদের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল এবং তাঁর বাবার দোকানে বাকি বাবদ ৯০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ওই টাকা না দেওয়ার উদ্দেশ্যে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সাজিয়ে তাঁর বাবাকে ফাঁসানো হয়েছে এবং তাঁদের দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ইউনুস আলী। তাঁর দাবি, তদন্তে তাঁর করা মামলার সত্যতা প্রমাণিত হবে। রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, আদালতে দায়ের করা মামলার নথি এখনো থানায় পৌঁছায়নি। নথি পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্টাফ রিপোর্টার : মিশকাতুর রহমান রিপন 



















