লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাসাবাড়ি বাজারে ১৬টি বসতঘরে ও ৩ টি দোকান ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসময় সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
এতে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন, ক্ষতিগ্রস্তরা। আগুন লাগানোর অভিযোগে স্থানীয় জনতা সোহেল নামক এক মাদকাসক্ত যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ এসে, মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫ টার দিকে ঐ বাড়ির রফিক উল্যার ছেলে মাদকাসক্ত সোহেল পেট্রোল ঢেলে নিজের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেন। পরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পাশাপাশি থাকা ১৬ টি বসতঘরে
ও ৩ টি দোকানে আগুন লাগে।
আগুনে ঘরবাড়ি, নগদ অর্থ , আসবাবপত্র, মালামালসহ বিভিন্ন জিনিস পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোহেল মাদকাসক্ত এবং তার অগ্নিসংযোগের কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তারা আরো বলেন , অভিযুক্ত সোহেল এলাকায় চুরি, ছিনতাই এবং মাদকের সাথে জড়িত।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রায়পুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে ২টি এবং লক্ষ্মীপুর সদর থেকে ১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়। অবশ্য এরইমধ্যে ১৬ টি বসত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ঘটনায় অবস্থানরত ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা বলেন, ভোর ৫টা দিকে তারা আগুনের খবর পান। তারা বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগের সত্যতার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি ও দোকানের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের আহাজারিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।সাজানো সংসার ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে অসহায় হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাউছার, রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেডএম নাজমুল ইসলাম মিঠু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন ও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোর নিঃস্ব হওয়া অধিবাসীদের আপাতত মাথা গোঁজার জন্য স্থানীয় সোনাপুর, প্রাইমারী স্কুলের কক্ষে পূনর্বাসন না হওয়া প্রর্যন্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাউছার। তিনি আরো বলেন, এমপি মহোদয়ের সাথে আলোচনা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
(লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি) (মোঃ শরিফ) 


















