দেশের সব সার কারখানার উৎপাদন পুনরায় চালু করে ইউরিয়া সার আমদানি বাবদ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও ইউরিয়া সার রপ্তানি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা। আজ দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ২৬ থেকে ২৭ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করতে হয়।
বিসিআইসির অধীন সার কারখানাগুলো সচল রাখা এবং প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সার রপ্তানির সক্ষমতাও তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে গ্যাসের সংকট। তবে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে কারখানাগুলো চালু করতে চাই। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। কারখানাগুলো চালু করতে পারলে আমাদের আর সার আমদানি করতে হবে না।’
চলতি বছরই উৎপাদনে ফিরতে পারে আশুগঞ্জ সার কারখানা
গ্যাসসংকটের কারণে ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন। তবে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে চলতি বছরের মধ্যেই কারখানাটিতে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিসিআইসি চেয়ারম্যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ সার কারখানাটি দেশের ইউরিয়া সার উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে কারখানাটি পুনরায় চালু করা গেলে দেশের সার উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।
আশুগঞ্জ সার কারখানা পরিদর্শনকালে বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞার সঙ্গে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মো. আলী আশরাফ, উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের সার কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন পুনরায় চালু করা গেলে ইউরিয়া সার আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের কৃষি খাত ও জাতীয় অর্থনীতিও উপকৃত হতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: সাধন সাহা জয় 


















