ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারের দাবিতে ভূরুঙ্গামারীতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কৃষি কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

সারের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী। চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। এ সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের তোপের মুখে পড়েন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। তাঁকে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখার পর পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সোনাহাট এলাকায় সার বিতরণকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সোনাহাট এলাকায় সার বিতরণ শুরু হলে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন কৃষকেরা। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা সড়কে বসে অবরোধ শুরু করেন। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার কোনো না কোনো ইউনিয়নে প্রতিদিনই সার নিয়ে কৃষকেরা বিক্ষোভ করছেন। কোথাও কোথাও সড়কও অবরোধ করা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিদিনই পুলিশকে ঘটনাস্থলে যেতে হচ্ছে।

ওসি বলেন, “কৃষি বিভাগে কী পরিমাণ সার মজুত আছে এবং কৃষকদের চাহিদা কত—তা পরিষ্কারভাবে জানানো হলে এ ধরনের সমস্যা কমত। কৃষি বিভাগ পর্যাপ্ত সার থাকার কথা বলছে, অথচ কৃষকেরা সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করছেন। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে পুলিশের অন্যান্য কাজও ব্যাহত হচ্ছে।”

এদিকে একই উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের শহীদ মোড় এলাকাতেও সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। এ সময় তাঁরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। আগাম ভুট্টা ও বেগুন চাষের জন্য কৃষকেরা বাড়তি সার মজুত করায় কোথাও কোথাও সাময়িক সংকট তৈরি হচ্ছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে সার বিতরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ১১৫ বস্তা সার ফেরত দেন কৃষকেরা।

ওই ঘটনায় ধলডাঙ্গা বাজারের সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে কৃষকদের সময়মতো সার না দেওয়া ও ক্যাশমেমোতে অসংগতির অভিযোগ ওঠে। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়।

সারের সংকট নিয়ে একের পর এক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কৃষকদের ক্ষোভের ঘটনায় ভূরুঙ্গামারীর সার বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সারের দাবিতে ভূরুঙ্গামারীতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কৃষি কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

সারের দাবিতে ভূরুঙ্গামারীতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কৃষি কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী। চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। এ সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের তোপের মুখে পড়েন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। তাঁকে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখার পর পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সোনাহাট এলাকায় সার বিতরণকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সোনাহাট এলাকায় সার বিতরণ শুরু হলে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন কৃষকেরা। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা সড়কে বসে অবরোধ শুরু করেন। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে কৃষি কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার কোনো না কোনো ইউনিয়নে প্রতিদিনই সার নিয়ে কৃষকেরা বিক্ষোভ করছেন। কোথাও কোথাও সড়কও অবরোধ করা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিদিনই পুলিশকে ঘটনাস্থলে যেতে হচ্ছে।

ওসি বলেন, “কৃষি বিভাগে কী পরিমাণ সার মজুত আছে এবং কৃষকদের চাহিদা কত—তা পরিষ্কারভাবে জানানো হলে এ ধরনের সমস্যা কমত। কৃষি বিভাগ পর্যাপ্ত সার থাকার কথা বলছে, অথচ কৃষকেরা সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করছেন। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে পুলিশের অন্যান্য কাজও ব্যাহত হচ্ছে।”

এদিকে একই উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের শহীদ মোড় এলাকাতেও সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। এ সময় তাঁরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। আগাম ভুট্টা ও বেগুন চাষের জন্য কৃষকেরা বাড়তি সার মজুত করায় কোথাও কোথাও সাময়িক সংকট তৈরি হচ্ছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে সার বিতরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ১১৫ বস্তা সার ফেরত দেন কৃষকেরা।

ওই ঘটনায় ধলডাঙ্গা বাজারের সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে কৃষকদের সময়মতো সার না দেওয়া ও ক্যাশমেমোতে অসংগতির অভিযোগ ওঠে। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়।

সারের সংকট নিয়ে একের পর এক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কৃষকদের ক্ষোভের ঘটনায় ভূরুঙ্গামারীর সার বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।