ঢাকা ০৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুর বাজারে সংঘর্ষের জেরে দোকানপাটে হামলা-লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সংঘর্ষের ঘটনায় পূর্বের সালিশি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় মিরপুর চৌমুহনী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির (ব্যকস) উদ্যোগে বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাজারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন মিরপুর চৌমুহনী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব শামসুল হক মাস্টার। সভায় বক্তব্য দেন বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী শামছুল আলম, মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ, ব্যকসের সাবেক সভাপতি মুতাব্বির হোসেন, ব্যবসায়ী মীর জমিলুন্নবী ফয়সল, সমিতির সহ-সভাপতি ফরিদ মিয়া, বিএনপি নেতা হাজী ইউনুস আলী ও আব্দুল ওয়াহিদ, যুবদল নেতা জয়নাল আবেদীন ও শামীম আল হোসাইন, তুরাব আলী, মাওলানা কুতুব উদ্দিন, লুৎফুর রহমান চৌধুরী সুমনসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, মিরপুর বাজারে সংঘর্ষের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সংঘর্ষের মতো ঘটনায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে আগের সালিশ বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুছলেকার দুই লাখ টাকা জামানত আদায়ের বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে হবে। বাজারে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, মিরপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ এ বাজারে কেনাকাটা করতে আসেন। এ ধরনের সংঘর্ষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা বাজারের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তাই কোনো পক্ষের সংঘর্ষের দায় যেন নিরীহ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে বহন করতে না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মিরপুর বাজারে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে বাজারের কয়েকটি দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এতে কয়েকজন ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হন। ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মিরপুর চৌমুহনী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা থেকে ব্যবসায়ীদের জানমাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং পূর্বের সালিশি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রি দোকানে মিলল ৫৭ বস্তা সার, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

মিরপুর বাজারে সংঘর্ষের জেরে দোকানপাটে হামলা-লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৪:৫০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সংঘর্ষের ঘটনায় পূর্বের সালিশি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় মিরপুর চৌমুহনী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির (ব্যকস) উদ্যোগে বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাজারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন মিরপুর চৌমুহনী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব শামসুল হক মাস্টার। সভায় বক্তব্য দেন বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী শামছুল আলম, মিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ, ব্যকসের সাবেক সভাপতি মুতাব্বির হোসেন, ব্যবসায়ী মীর জমিলুন্নবী ফয়সল, সমিতির সহ-সভাপতি ফরিদ মিয়া, বিএনপি নেতা হাজী ইউনুস আলী ও আব্দুল ওয়াহিদ, যুবদল নেতা জয়নাল আবেদীন ও শামীম আল হোসাইন, তুরাব আলী, মাওলানা কুতুব উদ্দিন, লুৎফুর রহমান চৌধুরী সুমনসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, মিরপুর বাজারে সংঘর্ষের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সংঘর্ষের মতো ঘটনায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সংগঠনকে সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে আগের সালিশ বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুছলেকার দুই লাখ টাকা জামানত আদায়ের বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে হবে। বাজারে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, মিরপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা। প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ এ বাজারে কেনাকাটা করতে আসেন। এ ধরনের সংঘর্ষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা বাজারের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তাই কোনো পক্ষের সংঘর্ষের দায় যেন নিরীহ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে বহন করতে না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মিরপুর বাজারে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে বাজারের কয়েকটি দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। এতে কয়েকজন ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হন। ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মিরপুর চৌমুহনী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা থেকে ব্যবসায়ীদের জানমাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত, ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং পূর্বের সালিশি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।