ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে সংসদে প্রশ্ন

  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 7
দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলের মেধাবী কিন্তু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আসনের ৩ শতাংশ সংরক্ষিত রয়েছে। এসব আসনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি মওকুফের বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষে তিনি এ তথ্য জানান।

জয়নাল আবেদিন জানতে চান, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যয় সহজলভ্য করতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না।

জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার ব্যয় সহজলভ্য করতে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৯(৪) অনুযায়ী প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসনের ৩ শতাংশ প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলের মেধাবী অথচ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করতে হয়।

এসব আসনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নকালে টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি মওকুফের বিধান রয়েছে।এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল, পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় বিভিন্ন হারে বৃত্তি এবং টিউশন ফি মওকুফ বা কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।

উগ্রবাদ-সহিংসতা মোকাবেলায় গবেষণা কাজে লাগানোর আহ্বান
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনের এই বিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংরক্ষিত আসনে ভর্তি, ফি মওকুফ ও বৃত্তি প্রদানের তথ্য পরিবীক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হবে।

পাশাপাশি সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা, যোগ্য শিক্ষার্থীদের কাছে তথ্য পৌঁছানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বৃত্তি ও ফি মওকুফের তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।‘ক্যাম্পাস ছাড়া সার্টিফিকেট বাণিজ্য করছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়’

পরে সম্পূরক প্রশ্নে জয়নাল আবেদিন অভিযোগ করেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে নির্ধারিত কাঠামো থাকলেও বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তা যথাযথভাবে মানছে না। একটি ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সার্টিফিকেট বাণিজ্য করছে। সেখানে গবেষণারও সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে দলীয় বিবেচনায় অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ফলে ব্যাঙের ছাতার মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বেড়েছে।এ অবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা ও পর্যাপ্ত ক্যাম্পাস নেই—এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে কি না, জানতে চান তিনি।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংসদ সদস্য বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে নোটিশ দিলে তা সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে প্রশ্ন

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী সম্পূরক প্রশ্নে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস, আবাসিক ব্যবস্থা, ল্যাবরেটরি ও গবেষণার সুবিধা চালুর বিষয়ে জানতে চান।

তিনি বলেন, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৪ সাল থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করলেও দুই বছর পার হয়েছে। এখনো বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি হয়নি। পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ও ব্রাহ্মণকাঠি মৌজায় ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এর অগ্রগতি নেই।

আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস, আবাসিক ব্যবস্থা, ল্যাবরেটরি ও গবেষণার সুবিধা কবে থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, জানতে চান তিনি।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নটির সঠিক উত্তর দিতে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য নোটিশ দিলে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত উত্তর দেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামের ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজ এলাকায় দেড় বছরের শিশুকে রেখে অজ্ঞাত নারী উধাও, থানায় জিডি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে সংসদে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৫:৪০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলের মেধাবী কিন্তু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য মোট আসনের ৩ শতাংশ সংরক্ষিত রয়েছে। এসব আসনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি মওকুফের বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষে তিনি এ তথ্য জানান।

জয়নাল আবেদিন জানতে চান, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যয় সহজলভ্য করতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না।

জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার ব্যয় সহজলভ্য করতে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৯(৪) অনুযায়ী প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসনের ৩ শতাংশ প্রত্যন্ত ও অনুন্নত অঞ্চলের মেধাবী অথচ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষণ করতে হয়।

এসব আসনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নকালে টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি মওকুফের বিধান রয়েছে।এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল, পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও বিশেষ প্রয়োজন বিবেচনায় বিভিন্ন হারে বৃত্তি এবং টিউশন ফি মওকুফ বা কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।

উগ্রবাদ-সহিংসতা মোকাবেলায় গবেষণা কাজে লাগানোর আহ্বান
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনের এই বিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংরক্ষিত আসনে ভর্তি, ফি মওকুফ ও বৃত্তি প্রদানের তথ্য পরিবীক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হবে।

পাশাপাশি সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা, যোগ্য শিক্ষার্থীদের কাছে তথ্য পৌঁছানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বৃত্তি ও ফি মওকুফের তথ্য প্রকাশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।‘ক্যাম্পাস ছাড়া সার্টিফিকেট বাণিজ্য করছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়’

পরে সম্পূরক প্রশ্নে জয়নাল আবেদিন অভিযোগ করেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে নির্ধারিত কাঠামো থাকলেও বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তা যথাযথভাবে মানছে না। একটি ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় সার্টিফিকেট বাণিজ্য করছে। সেখানে গবেষণারও সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে দলীয় বিবেচনায় অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ফলে ব্যাঙের ছাতার মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বেড়েছে।এ অবস্থায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা ও পর্যাপ্ত ক্যাম্পাস নেই—এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে কি না, জানতে চান তিনি।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংসদ সদস্য বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে নোটিশ দিলে তা সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে প্রশ্ন

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী সম্পূরক প্রশ্নে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস, আবাসিক ব্যবস্থা, ল্যাবরেটরি ও গবেষণার সুবিধা চালুর বিষয়ে জানতে চান।

তিনি বলেন, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৪ সাল থেকে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করলেও দুই বছর পার হয়েছে। এখনো বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি হয়নি। পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা ও ব্রাহ্মণকাঠি মৌজায় ৭৫ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এর অগ্রগতি নেই।

আবাসিক ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস, আবাসিক ব্যবস্থা, ল্যাবরেটরি ও গবেষণার সুবিধা কবে থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, জানতে চান তিনি।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নটির সঠিক উত্তর দিতে বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য নোটিশ দিলে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত উত্তর দেওয়া হবে।