২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
‘ফ্যাসিবাদী’ দল হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ নেই বলে জুলাই আন্দোলনকারীদের দাবি। তাদের দাবির মুখেই ২০২৫ সালে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছিল। ফলে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি।
তবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই প্রজ্ঞাপনের বৈধতার প্রশ্নে গতকালই হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন হয়।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় কি না—এ নিয়ে কেউ কেউ যে ধরনের অনুমান করছেন, তা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে, এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই। ভারত সরকারের সঙ্গে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বলছি, আপনি (শেখ হাসিনা) আসবেন না, আপনাকে ধরে নিয়ে আসতে চাই।
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে তিনি দেশে ফিরে বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না।’
জাহেদ উর রহমান বলেন,‘ টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।’
ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার নিয়ে অসন্তোষ
সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন এটি সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আশা করব ভারত সরকার, এ ব্যাপারে তাকে একটাবার (বাধা) দেবেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত সরকারের এ অবস্থান ‘সঠিক হচ্ছে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি শক্তিশালী এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই।’
ভারত চাইলে সম্পর্ক উন্নয়নে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারে
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি পদক্ষেপ নিতে পারে। সেটি হলো শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে বিরত রাখা।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইন্ডিয়ান সরকার সম্পর্কটা উন্নতি করার জন্য অন্তত একটা স্টেপ ইমিডিয়েটলি নিতে পারত, সেটা হচ্ছে তার মুখ বন্ধ রাখা। সেটা কেন নিচ্ছেন না, সেই জবাব আমার মনে হয় আমি আপনাদের কাছে চাইব।
অনলাইন ডেস্ক 
























