ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ বনদস্যু কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ

সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে চলমান অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে কোস্টগার্ড। সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সক্রিয় বনদস্যু কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও দস্যুবৃত্তিতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জমা নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুদের বাগেরহাটের মোংলার দিগরাজে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ জন আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণের সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান জমা নেওয়া হয়।
এ ছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা এবং ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকিও জমা নেওয়া হয়।
বিসিজিএস কামরুজ্জামানের নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্‌দীন প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা।
এ ছাড়া শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাটের রামপাল এলাকার বাসিন্দা।
কোস্টগার্ড জানায়, সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান চলছে।
এসব অভিযানে এ পর্যন্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জব্দ অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।

জনপ্রিয় সংবাদ

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে মসজিদের ফ্যান চুরি করতে গিয়ে যুবক আটক

নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ বনদস্যু কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ

আপডেট সময় : ০৬:৫২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে চলমান অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে কোস্টগার্ড। সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সক্রিয় বনদস্যু কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও দস্যুবৃত্তিতে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জমা নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে আত্মসমর্পণকারী বনদস্যুদের বাগেরহাটের মোংলার দিগরাজে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ জন আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণের সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান জমা নেওয়া হয়।
এ ছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা এবং ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকিও জমা নেওয়া হয়।
বিসিজিএস কামরুজ্জামানের নির্বাহী কর্মকর্তা কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্‌দীন প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা।
এ ছাড়া শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাটের রামপাল এলাকার বাসিন্দা।
কোস্টগার্ড জানায়, সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান চলছে।
এসব অভিযানে এ পর্যন্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জব্দ অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।