১৫ বিজিবি’র মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ ও অটোরিকশাসহ গাঁজা জব্দ
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বনচৌকি বিওপির টহলদল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ এবং গাঁজাসহ অটোরিকশা জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারিরা সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য পাচারের চেষ্টা করবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত ০২:৩০ মিনিটে বনচৌকি বিওপির আওতাধীন বনচৌকি (থানা- হাতিবান্ধা, জেলা-লালমনিরহাট) নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে বিজিবি টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক কয়েকজন ব্যক্তিকে সীমান্তের দিকে আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করেন এবং ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১৭৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করা হয়।
এছাড়াও, একই দিন সকাল ১১:০০ মিনিটে বালারহাট বিওপির আওতাধীন মাদ্রাসা মোড় (থানা-ফুলবাড়ী, জেলা-কুড়িগ্রাম) নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে টহল দলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিকে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশাসহ আসতে দেখে থামার সংকেত দিলে উক্ত চোরাকারবারী অটোরিকশা ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রিকশাটি তল্লাশী করে ভারতীয় গাঁজা ০৩ কেজিসহ জব্দ করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ইস্কাপ সিরাপ ১৭৫ বোতল, যার সিজার মূল্য ৭০,০০০/- টাকা, গাঁজা ০৩কেজি, যার সিজার মূল্য ১০,৫০০/- এবং অটোরিকশা ০১টি, যার সিজার মূল্য ২,০০,০০০/-সহ সর্বোমোট সিজার মূল্য ২,৮০,৫০০/- । এছাড়াও মাদক চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার “লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি” বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদকপাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি।। 


















