ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় স্ত্রীর যৌতুক মামলায় স্বামী ইউপি সচিব কারাগারে

নেত্রকোনায় স্ত্রীর করা যৌতুক মামলায় মো. মান্নান হোসেন (৪৪) নামের এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিবকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) আটপাড়া আমলি আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তিনি জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত। মামলার অভিযোগ ও বাদীপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধের জেরে ওই দম্পতির মধ্যে কলহ চলছিল। স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বেতনের টাকা জমা দিতে চাপ দেওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে টাকা দাবি করার অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী। এ ঘটনায় দুই সন্তানের জননী ওই নারী আইনের আশ্রয় নেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ আগস্ট পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়েতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাঁদের ৯ ও ৫ বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মান্নান হোসেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার বড়ওয়ারী এলাকার দিগজান গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে। তাঁর স্ত্রী একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন।

এদিকে বাদীর অভিযোগ, তাঁর স্বামী প্রতি মাসে বেতনের পুরো টাকা স্বামীর ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে বলতেন। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ২০ লাখ টাকা দিয়ে স্বামীকে জমি কিনে দেওয়ার পরও আরও ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে নেত্রকোনা শহরে বসবাস শুরু করেন তিনি। বাদীর আরও অভিযোগ, গত ৩ জুলাই তাঁর বাসায় গিয়ে টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেন স্বামী। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৯ আগস্ট আটপাড়া আমলি আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা করেন ওই নারী। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আদালত প্রথমে আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন। পরে সমঝোতা না হওয়ায় গত রোববার তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ স্বাধীন বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমি পারিবারিকভাবে তাঁদের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুই পক্ষকে সমঝোতায় রাজি করাতে পারিনি। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুখলেসুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “বিরোধ মীমাংসার সুযোগ দিতে আদালত একবার আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় গত রোববার আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

তালাকের তথ্য গোপন করে ৩৩ লাখ টাকা ও মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতে মামলা

নেত্রকোনায় স্ত্রীর যৌতুক মামলায় স্বামী ইউপি সচিব কারাগারে

আপডেট সময় : ০৬:০২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনায় স্ত্রীর করা যৌতুক মামলায় মো. মান্নান হোসেন (৪৪) নামের এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিবকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) আটপাড়া আমলি আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তিনি জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত। মামলার অভিযোগ ও বাদীপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধের জেরে ওই দম্পতির মধ্যে কলহ চলছিল। স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বেতনের টাকা জমা দিতে চাপ দেওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে টাকা দাবি করার অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী। এ ঘটনায় দুই সন্তানের জননী ওই নারী আইনের আশ্রয় নেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ আগস্ট পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়েতে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাঁদের ৯ ও ৫ বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। মান্নান হোসেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার বড়ওয়ারী এলাকার দিগজান গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে। তাঁর স্ত্রী একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন।

এদিকে বাদীর অভিযোগ, তাঁর স্বামী প্রতি মাসে বেতনের পুরো টাকা স্বামীর ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে বলতেন। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ২০ লাখ টাকা দিয়ে স্বামীকে জমি কিনে দেওয়ার পরও আরও ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। একপর্যায়ে ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে নেত্রকোনা শহরে বসবাস শুরু করেন তিনি। বাদীর আরও অভিযোগ, গত ৩ জুলাই তাঁর বাসায় গিয়ে টাকা না দিলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেন স্বামী। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৯ আগস্ট আটপাড়া আমলি আদালতে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা করেন ওই নারী। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আদালত প্রথমে আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন। পরে সমঝোতা না হওয়ায় গত রোববার তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

এ বিষয়ে গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ স্বাধীন বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমি পারিবারিকভাবে তাঁদের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুই পক্ষকে সমঝোতায় রাজি করাতে পারিনি। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুখলেসুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “বিরোধ মীমাংসার সুযোগ দিতে আদালত একবার আসামিকে জামিন দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় গত রোববার আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।