এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলোর স্বার্থ রক্ষা এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করার মধ্যে ভারসাম্য আনার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঋণের জামানত মূল্যায়ন করবে ১৩১ প্রতিষ্ঠান
সম্প্রতি ওয়েস্ট ইয়ার্ন আমদানি নিয়ে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এবং স্পিনিং মিল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়।
এনবিআরের আদেশে বলা হয়েছে, আমদানিকারককে অবশ্যই বিজিএমইএ বা বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত রপ্তানিমুখী কারখানা হতে হবে। আমদানির আগে প্রযোজ্য শুল্ক ও করের সমপরিমাণ নিঃশর্ত এবং অব্যাহতি-অযোগ্য ব্যাংক গ্যারান্টি সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনে জমা দিতে হবে। শুল্কমুক্ত কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য সম্পূর্ণ রপ্তানি হওয়ার পর লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা হবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওয়েস্ট ইয়ার্ন মূলত তুলনামূলক কম দামের কাঁচামাল। এটি ব্যবহার করে নিম্ন ও মধ্যমূল্যের বিভিন্ন ধরনের পোশাক, মোজা, নিটওয়্যার এবং টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদন করা হয়। রপ্তানিকারকদের দাবি ছিল, স্থানীয় বাজারে প্রয়োজনীয় মান ও দামের কাঁচামাল সবসময় পাওয়া যায় না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে আমদানির সুযোগ প্রয়োজন।
সুতায় প্রণোদনা ফেরানোর ইঙ্গিত
অন্যদিকে দেশীয় স্পিনিং শিল্প মালিকদের আশঙ্কা ছিল, নিয়ন্ত্রণহীন আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে স্থানীয় সুতা উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে এনবিআর সরাসরি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি না দিয়ে ব্যাংক গ্যারান্টির শর্ত আরোপ করেছে। ফলে আমদানিকৃত কাঁচামাল কেবল রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা দীর্ঘদিন ধরে এ সুবিধা চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে ক্রেতাদের মূল্যচাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি, পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিকল্প কাঁচামালের ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বিটিএমএ বরাবরই দেশীয় শিল্প সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
এনবিআরের আদেশ অনুযায়ী, কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৬-এর ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে আদেশ জারির তারিখের আগে দায়ের করা বিল অব এন্ট্রির ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তে একদিকে রপ্তানিকারকরা কাঁচামাল সংগ্রহে কিছুটা স্বস্তি পাবেন, অন্যদিকে ব্যাংক গ্যারান্টির শর্তের কারণে স্থানীয় শিল্পের উদ্বেগও আংশিকভাবে প্রশমিত হবে। তবে বাস্তবে এর প্রভাব কতটা পড়ে, তা নির্ভর করবে আমদানি তদারকি ও শর্ত বাস্তবায়নের ওপর।
অনলাইন ডেস্ক 
























